নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:  পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের প্রাক্কালে বুধবার বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ তার প্রস্তাব দিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী নগরীতে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সংকটের সমাধানে ইতোমধ্যেই পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা তাঁর প্রস্তাবের আলোকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পরামর্শ পাঠিয়েছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে একটি কার্যকর পদক্ষেপ নিবে বলে বাংলাদেশ আশা করছে। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ ভয়ে ৪ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের উদ্বেগের সঙ্গে জাতিসংঘও ইতোমধ্যেই এ ঘটনাকে জাতিগত নিধন উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছে এবং আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় এ ঘটনাকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, সুইডেন, ইতালি, মিসর ও জাপানের রাষ্ট্রদূতগণ উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনুষ্ঠেয় নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত

আলোচনায় বাংলাদেশ বক্তব্য রাখবে। তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্য রাষ্ট্র রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহানুভুতিশীল এবং বাংলাদেশের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করব এবং আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।

গত মাসে সংকট শুরুর পর নিরাপত্তা পরিষদ দুই বার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে, তাছাড়া চলতি মাসের গোড়ার দিকে সংস্থাটি এই পরিস্থিতির নিন্দা এবং সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়ে বিবৃতি দেয়।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অফিসের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উ কিওয়াও টিন্ট সোয়ে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তার ঢাকা সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তার এই সফরটি বিলম্বিত হতে পারে। কারণ প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

আজ সকালে ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা ঢাকাকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার দেশ ‘মানবিক ও কূটনৈতিকভাবে’ বাংলাদেশকে সমর্থন করবে।

আজ সকালে সফররত জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার আইওয়াও হোরি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই সংকটময় মুহূর্তে জাপান বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে দেশটির মন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব এম. শহিদুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।