কারিগরি শিক্ষাখাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা, ১৩ আশ্বিন (২৮ সেপ্টেম্বর) : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাখাতকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যমআয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন মেয়াদি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রী আজ হোটেল সোনারগাঁওয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) পরিকল্পনা” শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

মন্ত্রী নাহিদ বলেন, কারিগরি শিক্ষা এদেশে খুব বেশি অবহেলিত ছিল। এ শিক্ষার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। এখাতে অর্থবরাদ্দ ছিল অতি নগণ্য। কোনো প্রকল্প ছিল না। ২০০৯-এর আগে এখাতে ভর্তির হার ছিল শতকরা ১ ভাগের-এর নিচে। তিনি বলেন, বর্তমানে এ শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার শতকরা ১৪ ভাগের ওপরে, ১টি আসনের বিপরীতে ১০/১২ শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অংশগ্রহণ করে। এ শিক্ষার সম্প্রসারণের পাশাপাশি মানোন্নয়ন নিয়ে নানা পর্যালোচনা চলছে।

নাহিদ বলেন, শিক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার খাত। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা অগ্রাধিকারের অগ্রাধিকার। এখাতে এখন অনেক কাজ হচ্ছে। এখানে শতকরা ১০০ ভাগ ছাত্রীকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। সম্প্রতি সাড়ে তিন শত শিক্ষার্থীকে তিন বছরের স্কলারশিপ দিয়ে চীন পাঠানো হয়েছে। ২১৫০ জন শিক্ষককে সিঙ্গাপুর ও চীনে প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সৎ, ন্যায়পরায়ণ, মূল্যবোধসম্পন্ন, প্রযুক্তি দক্ষ জনবলে পরিণত করতে হবে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রধান সমন্বয়ক (এসডিজিএস) মো. আবুল কালাম আজাদ, স্টেপ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ বি এম আজাদ বক্তৃতা করেন। কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত সচিব ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাস। কর্মশালায় দুই শতাধিক দেশি-বিদেশি কারিগরি শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।