ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজারে বাড়ছে ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। প্রায় দুই বছর ধরে ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বাজার। ফলে ২০১০ সালের মহাধসের পর শেয়ারবাজারে যে সঙ্কট দেখা দিয়েছিল তা আস্তে আস্তে অনেকটাই কেটে গেছে। তবে গত কয়েক মাস ধরে মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির পাশাপাশি বেশকিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) থেকে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের বারবার সতর্ক করা হলেও কাজে আসছে না। অতিমুনাফার লোভে গুজবের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করছেন বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীদের এমন আচরণ ও দুর্বল কোম্পানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় শেয়ারবাজারে নতুন করে এক ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, ২০১০ সালের ধসের ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে শেয়ারবাজার। মহাধসের পর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বাজার ইতিবাচক ধারায় ফেরার ইঙ্গিত দিতে থাকে। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান অথবা বড় ধরনের পতন দেখা যায়নি। এ সময়ের মধ্যে একদিকে যেমন কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল না, অন্যদিকে আমানত ও সরকারি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমে গেছে। এর সঙ্গে শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের ওপর মহলের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। ফলে বাজারের ওপর প্রায় সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর কিছুটা হলেও আস্থা ফিরে আসে।

অস্বাভাবিক উত্থান-পতন না থাকায় বিনিয়োগকারীদের লোকসান দিয়ে বাজার ছাড়তে হচ্ছে- এমন খবর এখন আর শোনা যাচ্ছে না। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে বিনিয়োগে ফিরছেন ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা। ফলে লেনদেনেও গতি ফিরেছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের বিচক্ষণতার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে।