বিশ্ব বাস্তবতায় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

নিউজ ডেস্ক : ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে ভাষন দিয়েছেন এবং পাঁচটি প্রস্তাব বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি ছোট একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থী নিয়ে বিপাকে আছেন। বেশ কিছুদিন যাবৎ নৃশংস জাতি নিধনের বিষয়টি বলে আসছেন এবং আরাকানবাসী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি কেতাদের সকল মানবাধিকার সমুন্নত রেখে স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য জোড় দাবী জানিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে এই হত্যাযজ্ঞ এবং জাতি নিধনের বিষয়টি নিয়ে অনেক ব্যক্তি ও রাষ্ট্র মুখ খুলছেন।

ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন স্পষ্ট বলেছেন মায়ানমার রাখাইনে সংখ্যালঘুদের উপর গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার মায়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষন দেয়া বন্ধ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তরিৎ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘকে বলেছেন, এছাড়াও তিনি ৩২ মিলিয়ন ডলার সাহায্যের কথাও ঘোষনা দিয়েছেন। চীন মৃদুস্বরে হলেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোজার কথা বলেছে।

মায়ানমারের নিরাপত্তা অজুহাতে ২৫ শে আগষ্টের পর থেকে যে ধ্বংস, হত্যা, ধর্ষন, এবং জাতিনিধনের প্রক্রিয়া চলছে এত সত্বেও বিশ্বজনমত তাদের বিরুদ্ধেই গড়ে উঠছে। বহু প্রত্যাশিত ভাষনেও অং সাং সূচি বিশ্ববাসিকে আশ্বস্ত করতে পারেনি যে, তিনি মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড থেকে নিবৃত রয়েছেন, এবং তার দেশের শরনার্থীদের তিনি নিরাপদে ফিরিয়ে নেবেন এমন বিষয় স্পষ্ট করে বলেননি।

আগষ্টের শেষ প্রান্তে শুরু হওয়া এই মানবতাবিরোধী অভিযানের পরও বিশ্বজনমত নিরবভ’ মিকা পালন করে আসছিল, এমনকি কিছু প্রভাবশালী রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মিয়ানমারকে প্রেরণা যুগিয়ে আসছে। কিন্তু বিশ্ব প্রচার মাধ্যমে এই নারকীয়তা উন্মোচিত হওয়ার পর বিশ্ব জনমত দারুনভাবে সাড়া দিচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্দিষ্ট পরিমানে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বলেছেন। জাতিসংঘের সাধারনপরিষদ বাংলাদেশকে মায়ানমার ইস্যুটি আর্ন্তজাতিকি করনের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ওআইসি কর্নধারদের সামনে ৬টি বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন। অতি সত্বর হত্যাবন্ধ, মুসলিমনিধন বন্ধকরন, সেফ জোনসৃষ্টি, নিঃশর্তে কফি আনান রিপোর্ট বাস্তবায়ন, রোহিঙ্গাদের ‘ বাঙ্গালী’ বলে প্রচার বন্ধে মায়ানমার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি সাহায্যের জন্য ওআইসি নের্তৃবৃন্দদের প্রতি আহবান জানান।

গত কয়েক দিনের অগ্রগতির পরও দেখাযায় বিশ্ব মোটামোটি দ’ভাগে বিভক্ত,সাধারণ বিশ্ববাসি এভাবে হয়তো প্রত্যাশা করেনা। কিছু দেশ ভ’রাজনৈতিক, ক’টনৈতিক কারনে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এ মূহুর্তে বাংলাদেশ প্রকৃত বন্ধুদের যাচাইবাছাই করার মাধ্যমে তারক’টনীতি নির্ধারন করবে। রোহিজ্ঞা শরণার্থীদের সসম্মানে , নিরাপদে মায়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে নিবিঢ় তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বিষয়টিকে ‘ জাতিগত নিধন’ বলে মন্তব্য করেছেন যা বাংলাদেশের কাজের জন্য ধনাত্মক হিসাবে বিবেচনা করা যায়।

বাংলাদেশের সামনে যে বিষয়টি অত্যন্ত বিব্রতকর বিষয় হলো তার পররাষ্ট্র নীতিকে কিভাবে অগ্রসরমান এবং কার্যকর করবে। যাদের প্রতি বাংলাদেশের অনেক আস্থাছিল সেরকম কিছু দেশ এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। তারা আদৌ মানবতার স্বার্থে ভুরাজনৈতিক কৌশল, অর্থনৈতিক লালসা থেকে সরে এসে মানবাধিকার সমুন্নত করবেন নাকি আমাদের মত দুর্বল দেশগুলোর হাবুডুবু খাওয়ার দৃশ্য দেখে অমানবীয় হাসি হাসবেন। সময়ই নির্ধারন করবে বিশ্ববিবেক, মানবিকতা, নৈতিকতার জয় অবসম্ভাবী।

লেখক : মো: কামাল উদ্দিন, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ও কলাম লেখক ।