গৌরীপুরে ডাকঘরে পোস্টাল অর্ডার সংকট, কালোবাজারে মিলছে অহরহ ॥ ৩০ টাকার পোস্টাল অর্ডার ১০০টাকা

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ॥
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডাকঘরগুলোতে পোস্টাল অর্ডার সংকটের কারণে প্রতিদিন শত শত চাকরি প্রার্থী ডাকঘরে পোস্টাল অর্ডার সংগ্রহ করতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে কালোবাজারে পোস্টাল অর্ডার বিক্রি করছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের আগস্ট মাসে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় গৌরীপুর উপজেলায় বেকার যুবক-যুবনারীদের কর্মসংস্থানের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী আবেদনকারীকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর চাকরির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সাথে ৩০টাকার পোস্টাল অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট দাখিল করার কথা বলা হয়। কিন্তু ব্যাংক ড্রাফটে খরচ ও সময় বেশি লাগে এবং ঝামেলা পোহাতে হয়। এ কারণে বেশিরভাগ প্রার্থী পোস্টাল অর্ডারের মাধ্যমে আবেদন করা শুরু করে। প্রকল্পটিতে বিপুল সংখ্যক বেকার প্রার্থী আবেদন করায় চলতি মাসের শুরুর দিকেই ডাকঘরগুলোতে পোস্টাল অর্ডার সংকট দেখা দেয়। এতে করে বিপাকে পড়ে দরিদ্র চাকরি প্রার্থীরা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ডাকবিভাগের কতিপয় অসাধু লোকজনের যোগসাজশে একটি চক্র কালোবাজারে অতিরিক্ত দামে পোস্টাল অর্ডার বিক্রি শুরু করে। চক্রটি গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা সহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ডাকঘর থেকে পোস্টাল অর্ডার সংগ্রহ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি শুরু করে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পৌর শহরের কালীখলা ও হাতেম আলী সড়কের কম্পিউটারের দোকানগুলোতে ৩০ টাকার পোস্টাল অর্ডার ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডাকঘরে পোস্টাল অর্ডার না পেয়ে চাকরি প্রার্থীরা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বাইরের দোকান থেকে পোস্টাল অর্ডার সংগ্রহ করছে। রফিকুল ইসলাম নামে এক চাকির প্রার্থী বলেন, ডাকঘরে পোস্টাল অর্ডার না পেয়ে কালীখলার এক দোকান থেকে ৮০ টাকা দিয়ে সংগ্রহ করেছি। একই কথা জানালেন অপর চাকরি প্রার্থী রওশন আরা, সুমি আক্তার সহ আরো কয়েক জন। তবে তারা কিনেছেন ১০০ টাকা করে। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার জানান, ন্যাশনাল সার্ভিসে আবদেন করতে বেকারদের হিড়িক পড়ার কারণেই স্থানীয় ডাকঘরে পোস্টাল অর্ডার সংকট দেখা দেয়। তাই আমরা গৌরীপুর ও অন্য উপজেলার ডাকঘর থেকে পোস্টাল অর্ডার সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করছি। যেহেতু চাহিদা প্রচুর তাই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মেয়াদ একটু পর্যন্ত ব্যবসা করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার বলেন, চাহিদা বেশি থাকায় পোস্টাল অর্ডার সংকট দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ৫শ পোস্টাল অর্ডার আসলেও অধিকাংশ ঐদিন শেষ হয়ে যায়। পুনরায় চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আর কালোবাজারে যেসব পোস্টাল অর্ডার বিক্রি হচ্ছে সেগুলো আমাদের নয়। সিল দেখলেই বুঝতে পারবেন এগুলো কোথাকার।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা পোস্ট অফিস পরিদর্শক রিপন রায় বলেন, আমাদের পোস্টাল অর্ডার সংকট আছে। তবে কালোবাজারে পোস্টাল অর্ডার অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার বলেন, যেকল ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে পোস্টাল অর্ডার বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।