ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে চলছে জাল সনদে আবেদন

শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : সরকারের বেকার যুবক-যুবনারীদের অস্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীতে আবেদনের ক্ষেত্রে গৌরীপুরে চলছে ব্যপক জাল শিক্ষা সনদ, জাল ও বয়স বাড়ানো-কমানো এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন সনদের ছড়াছড়ি।

সরকার বেকার যুবক-যুবনারীদের অস্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য চলতি বছর ২৯আগস্ট যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর আওতায় ৬ষ্ট ধাপে এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাথে ময়মনসিংহ গৌরীপুরে যুবক ও যুবনারীদের কাছ থেকে আবেদন আহবান করে।

বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী আবেদনকারীর বয়স ২৪ থেকে ৩৪ হতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে নূন্যতম উচ্চমাধ্যমিক। এই প্রকল্পটিতে বিপুল সংখ্যক লোক নিয়োগ করা হবে এমন ধারণা থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন স্থানীয় বেকার প্রার্থীরা আবেদন করা শুরু করে। তবে অসদুপায় অবলম্বন করে অনেক প্রার্থী অবৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করে প্রকল্পটিতে আবেদন করা শুরু করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাকা দিলেই মিলছে যেকোনো শিক্ষাবোর্ডের জাল শিক্ষাসনদ ও নম্বরপত্র। বাদ যাচ্ছেনা জাতীয় পরিচয় পত্র সহ জন্মনিবন্ধন সনদও।

অভিজ্ঞতার সনদ সহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্রও আছে এই তালিকায়। সম্প্রতি ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির নিয়োগকে সামনে রেখে সেই দোকানগুলোর অবৈধ ব্যবসাটা অনেকটা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। প্রতিদিন এসকল দোকান থেকে অবৈধ সনদ ও কাগজপত্র সংগ্রহ করে আবেদন করছে উপজেলা ও আশেপাশের অন্যান্য উপজেলার প্রার্থীরা। আর ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। তবে প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা। এতে করে প্রকৃত বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ বিতর্কিত হবে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

পৌর শহরের বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে শিক্ষাসনদ তৈরির জন্য বিশেষ সফটওয়্যার আছে। ওই সফটওয়্যার ব্যবহার করলে সনদের ওপর কোনো সিল ও স্বাক্ষর থাকলে সেটি নকল না আসল তা বোঝার উপায় থাকে না। বোর্ডের কাগজের রঙের সঙ্গে মিল রেখে এ সনদ তৈরি করা হয়। সর্বনিম্ন ৫শ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার বিনিময়ে মিলেছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমকি, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তার পর্যায়ের জাল শিক্ষাসনদ ও নম্বরপত্র। ২শ টাকায় মিলছে জাল জাতীয় পরিচয়ত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ। এছাড়াও নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলে মিলছে অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার যেকোন কাগজপত্র।

অবৈধ এসব কাগজপত্র সত্যায়িত করতে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সিল ও সাক্ষর জাল করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন ব্যবসায়ী বলেন, এখানে ভূয়া শিক্ষাসনদ ও নম্বরপত্র তৈরি হয়না। তবে ন্যাশনাল সার্ভিসে আবদন করার জন্য প্রার্থীদের সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স টাকার বিনিময়ে কম-বেশি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডৌহাখলা ইউনিয়নের এক নারী বলেন, ন্যাশনাল সার্ভিসে আবেদন করার জন্য পৌর শহরের হাতেম আলী সড়কের একটি দোকান থেকে ৭শটাকার বিনিময়ে আমার সার্টিফিকেট ও ভোটার আইডি কার্ডের বয়স কমিয়েছি। তবে তিনি দোকানদারের নাম বলনেনি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার নাজমুল ইসলাম বলেন, ন্যাশনাল সার্ভিসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে কাগজপত্র সত্যায়িত করার জন্য অফিসে লোকজনের ভীড় বাড়ছে। এরকম প্রায়ই নকল কাগজপত্র সত্যায়িতের জন্য ভীড়ের মাঝে নিয়ে আসে কেউ কেউ। যাদের কাগজপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ছে তাদেরকে সর্তক করে দেয়া হচ্ছে। তবে আমি সনদের মূলকপির সাথে অনুলিপির তথ্য মিল থাকলেই শুধু সত্যায়িত করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার বলেন, কোনো আবেদনকারী অবৈধ পন্থায় ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে আবেদন করলে সেটা যাচাই-বাছাই করার সময় বাদ পড়ে যাবে। এসব অবৈধ ব্যবসায় যারা জড়িত তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।