সু চির বিচারে আন্তর্জাতিক গণ আদালতে শুনানি শুরু

নিউজ ডেস্ক: সকালের ভারী বৃষ্টিতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পুটিবুনিয়ার অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরের সামনের রাস্তার এই হাল হয়েছে। কাদা–পানি মাড়িয়ে শিবিরে ঢুকছে সীমান্ত পেরিয়ে গতকালই আসা কয়েকটি পরিবার। দুপুরে তোলা ছবি l

সৌরভ দাশমুসলিম রোহিঙ্গা বলেই নয়, মিয়ানমারের খ্রিষ্টান, কাচিন, এমনকি বৌদ্ধ তারাংদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে একটি আন্তর্জাতিক গণ-আদালতে শেষ পর্বের শুনানি গতকাল সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে শুরু হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীই শুধু নয়, দেশটির প্রধান ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এবং এর আলোচিত নেত্রী অং সান সু চি যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইতিমধ্যে অভিযুক্ত হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র গত মার্চে লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত রোমভিত্তিক পারমানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনালের (পিপিটি) সূচনা অধিবেশনে গৃহীত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই পিপিটি ষাটের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পটভূমিতে প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের ধারণায় প্রতিষ্ঠিত। ইতালির বোলোগনাতে ১৯৭৯ সালে এর যাত্রা শুরু। তবে ব্যতিক্রমধর্মী এই গণ-আদালতের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম জেনারেলদের পাশাপাশি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী কেউ নৈতিকভাবে দণ্ডিত ও দোষী সাব্যস্ত হতে চলেছেন। মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবী চন্দ্র মোজাফফর পিপিটির চলমান বিচারিক কার্যক্রম সফল করতে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে ভূমিকা রেখেছেন।

কুয়ালালামপুরে গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই গণ-আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বন্ধ করার অনুরোধ জানান। তিনি নাগরিকত্বের বাছবিচার ছাড়া রোহিঙ্গাদের সেখানে শান্তিতে বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ কামনা করেন।

গণ-আদালতের বিষয়ে মন্তব্য চাইলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও লেখক মফিদুল হক প্রথম আলোকে গতকাল বলেন, এই আদালতের কার্যক্রমে বিশ্ব নাগরিক সমাজের মতামত ও অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটছে। শুক্রবার যে রায় আসবে, তা বাস্তবায়নের দায়দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পিপিটি যে আইনি ধারার সূচনা করেছে, সেটাই কালক্রমে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) এখতিয়ারের বিষয় বলে স্বীকৃত হবে। তিনি এ প্রসঙ্গে স্মরণ করেন যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা এই অঞ্চলে বাংলাদেশই শুধু আইসিসিবিষয়ক সংবিধি সই ও তাতে অনুসমর্থন দিয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে এই প্রক্রিয়া থেকে সুফল পাবে।

পিপিটির সমাপনী অধিবেশন কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে শুরু হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশনের আয়োজন করা হলো।