রোহিঙ্গাদের ‘মারাত্মক হুমকি: ভারত

নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা খাওয়ার পানির সংকটে ভুগছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং পুটিবনিয়া এলাকার অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরের পাশের খাল থেকে পানি সংগ্রহ করছে নারী ও শিশুরা। ছবিটি গত শনিবার বিকেলে তোলা l প্রথম আলোভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, রোহিঙ্গারা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’। সরকার বলেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। ভারত থেকে রোহিঙ্গাদের বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা পিটিশনের জবাবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এ বক্তব্য দিয়েছে।

, পিটিশনের জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, রোহিঙ্গারা অর্থ পাচার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। রোহিঙ্গাদের বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত একটি ‘নির্বাহী নীতিসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত’।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিছু লোক জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, ‘জম্মু, দিল্লি, হায়দরাবাদ ও মেওয়াতে এমন কিছু রোহিঙ্গা মানুষ পাওয়া গেছে। তাঁরা ভারতের অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।’

ভারতীয় সরকারের দাবি, ২০১২ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ভারতে চলে আসে এবং বসবাস করতে শুরু করে। সরকারি নথিপত্রে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের অনেকে আইএসআই বা আইএসআইএসের মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁরা ভারতের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক ও বিভক্তকারী সহিংসতা সৃষ্টির মাধ্যমে চরমপন্থী উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ এ ছাড়া গোয়েন্দা ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ পাকিস্তানভিত্তিক ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।’

পিটিশনের জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার আরও বলেছে, ভারতীয় বৌদ্ধদের ওপর এসব ‘চরমপন্থী’ রোহিঙ্গারা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘একমাত্র বৈধ নাগরিকদেরই দেশে বসবাস করার অধিকার রয়েছে, কোনো অবৈধ অভিবাসীদের তা নেই।’ জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক কনভেনশনের নিয়ম মানতে ভারতে বাধ্য নয় উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, অবৈধ অভিবাসীদের জোয়ার ভারতের ‘নিজস্ব নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে’।

কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দুজন ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে এই পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর এর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেছেন, এ ক্ষেত্রে প্রথমে আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। এরপর আদালত কী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বের করে দিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা। ভারতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মানুষ বাস করছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার শরণার্থী জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায় নিবন্ধিত রয়েছেন।