ফুলবাড়ীতে ঘর পেয়ে খুশি ১৮৯ দুঃস্থ পরিবার

জাকারিয়া মিঞা, ফুলবাড়ী: জমি আছে বসবাসের উপযোগি ঘর নেই। ফুলবাড়ী উপজেলার এমন ১৮৯ টি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালিত আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় একটি করে ঘর ও পাঁকা ল্যাট্্িরন পেয়ে দারুন খুশি। বর্ষায় যাদের ঘরের ছাউনির ফুটো দিয়ে গরিয়ে পড়তো পানি। আর শীতের হাঁড় কাপানো কনকনে ঠান্ডা হাওয়া যাদের ঘরের এক পাশে ঢুকে বেড়িয়ে যেত অন্য পাশ দিয়ে। এ রকম হতদরিদ্ররা নিজের বসত ভিটায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।

উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ঘোগারকুটি গ্রামের আলম জানান, শাহবাজার হাট ঝাড়– দিয়ে প্রতিদিন যে কয়টা টাকা আয় হয় তাই দিয়ে কোন রকমে তার সংসার চলে। ঘর ভালো করার টাকা কখনোই তার জোগার হতো না। তাই ভাঙ্গা চোরা ঘরেই বউ ছেলে নিয়ে তাকে থাকতে হতো। ঝড় বৃষ্টির দিনে তাকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো।

প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দের ঘর পেয়ে তার সেই দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে। সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের শাহবাজার এলাকার সন্তানহীন বিধবা সরোবালা জানান, বয়স হয়েছে ঠিক মতো কাজ করতে পারি না। অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাওয়ার খরচ ঠিক মতো জোটে না। অসুখ বিসুখে ওষুধ সব সময় পাই না। সে কারণে ভাঙ্গা ঘরে থাকতে হতো।

বৃষ্টিতে পানি পড়তো। সরকার আমাকে ঘর করে দিল। এখন নিশ্চিন্তে ঘরে ঘুমানো যাবে। সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের হরিবোলা জানান, শীতের সময় ঘরে শিরশির করে ঠান্ডা বাতাস ঢুকতো। বর্ষাকালে দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে যেত। খুব কষ্ট করে ঘরে থাকতে হতো। সরকার থেকে ঘর পাওয়ায় সেই কষ্ট দূর হয়েছে। এরকম হতদরিদ্রদের বাছাই করে ফুলবাড়ী উপজেলায় ১৮৯ জনকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে উপজেলা আশ্রয়ন টাস্কফোর্স কমিটি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত¡াবধানে এই উপকার ভোগীদের নির্বাচন করা হয়।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৮৯ জন হতদরিদ্র গৃহহীনদের বিনামূল্যে সাড়ে ১৬ ফিট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ১০ ফিট প্রস্থ্যের টিন শেড মেঝ পাঁকা একটি করে ঘর ও একটি স্যানেটারী পাঁকা ল্যাট্রিন নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিটি ঘর ও স্যানেটারী ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক লাখ করে টাকা।

সরকারি এই সুবিধা যাদের পাওয়ার অধিকার তারাই পেয়েছে। সামনে আরও ৩ শতাধিক গৃহহীন পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ উপজেলায় এক হাজার গৃহহীন পরিবারকে এ সুবিধায় অর্ন্তভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।