রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাদা ছোড়া বন্ধ করুন: ফখরুল

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি বিশাল সমস্যা। অবিলম্বে সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবীসহ সকল পর্যায়ের মানুষদের সম্পৃক্ত করে সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা করতে হবে। সরকারকেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের নিয়ে এই ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

সুতরাং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে বলতে চাই, কাদা ছোড়াছুড়ি করবেন না। আমরা বিভক্তি চাই না, সহযোগিতা করতে চাই। আপনারা সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সংকট মোকাবিলায় জোর দিন। গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

মির্জা আলমগীর বলেন, মানবতার উপর চরম আঘাত করেছে মিয়ানমার সরকার। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। আমরাও এটাকে গণহত্যা বলছি। ইউএনডিপির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা উচিত ছিল বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু তারা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি না করে অন্যায়ভাবে বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে।

এতে প্রমাণ হয়, এই পর্যন্ত সরকারের পক্ষে ত্রাণ বিতরণ ছিল লোক দেখানো। তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দিন। রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিন। এ জন্য প্রয়োজন কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা। এ জন্য যা যা করার প্রয়োজন তা করতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে সরকারের কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। সরকার যে ত্রাণ-ট্রান করছেন, ব্যবস্থা করছেন তা লোক দেখানো ব্যাপার।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় সরকার প্রায় ফেল করে যাচ্ছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সেখানে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু উপস্থিত ছিলেন।