লোকসানের মুখে ভোলার চামরা ব্যবসায়ীরা

ভোলা প্রতিনিধি জে,এম,মমিন: লাভের আশায় গত বছরচামড়া কিনেছি. কিন্তু লাভ তো দুরের কথা চালানপর্যন্ত উঠেনি, এ বছরও চামড়া কিনেলোকসানের মুখে। গত এবং এ বছর মিলিয়ে দুইবছরে ১৪ লাখ টাকার চামড়া কিনে চরম ক্ষতিরমুখে রয়েছি। ক্ষোভের সাথে এ কথাগুলোইবলছিলেন চামড়া আড়ৎদার ইসমাইল হোসেন।

তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর ব্যবসায়েবিপর্যয় দেখা দিয়েছে। একদিকে লবনের দামবেশী অন্যদিকে পাইকারী আড়তে চামড়ার কমথাকায় চামড়া নিয়ে চরম সংকটের মধ্যেপড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কোরবানির পর ১২দিনপেরিয়ে গেলেও গরুর চামড়া কেউ বিক্রিকরেননি, এভাবে চলতে থাকলে অবশেষে চামড়াপচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। চামড়া কিনে এমনসংকটে শুধু ইসমাইল হোসেন নয়, তার মতএকই অবস্থা ইউসুফ, নুর উদ্দিন, মোস্তাকিম,আ: মালেক, কামাল হোসেন ও ফারুকসহঅন্যদেরও।

এ মৌসুমে একদিকে চামড়া বাজার মন্দা,অন্যদিকে লবনের দাম বেড়ে যাওয়ায় চরমবিপাকে পড়েছেন ভোলার চামড়া ব্যবসায়ীরা।তাদের অভিযোগ, পাইকারী বাজারে দাম কম।অন্যদিকে টেনরি মালিকরা চামড়া কিনলেওবাকিতে চামড়া নিতে চায়, তাই অনেকেই চামড়াবিক্রি থেকে বিরত রয়েছেন।

ভোলা জেলা সদরসহ জেলার সাত উপজেলারশতাধিক চামড় ব্যবসায়ী ও অর্ধশতাধিক আড়ৎথাকলেও এ বছর চামড়া নিয়ে বিপাকেপড়েছেন। কারন, শুরুতে বেশী দাম দিয়ে চামড়াকিনে সেই দাম পাবেন কিনা তা নিয়ে চরমঅনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতবছর যেখানে চামড়ার দাম ছিলো প্রতি পিস ৩শ’থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা। সেই চামড়াই এ বছরকিনতে হয়েছে ৫শ’ টাকা দরে। তার মধ্যে আবারলবন ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে চামড়ার দামপড়েছে প্রায় ৭শ’ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু পাইকারীবাজারে চামড়ার দাম ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকার মত।এতে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, গত বছর প্রতি বস্তালবনের মূল্য ছিলো ১২শ’ টাকা। বর্তমানে লবনবিক্রি হচ্ছে ১৫শ’ টাকা দরে। সেখানে চাড়মারদাম বেড়েছে, সেখানে লবনের দামও। তাই লাভতো দুরের কথা, লোকসান গুনতে হবে অনেকব্যবসায়ীদের।

ভোলা শহরের কালিনাথ রায়ের বাজারের চামড়াআড়ৎ ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা লবন দিয়েচামড়া প্রস্তুত করছেন। বেশিরভাগআড়ৎড়লোতে চামড়া টাল দিয়ে সাজানোহয়েছে। ব্যবসায়ীরা চামড়া প্রস্তুত করে মজুতকরে রেখেছেন। কেউ বিক্রি করলেও অনেকেইচামড়া বিক্রি করেননি। ঈদের পর থেকে কেটেগেছে ১২ দিন। গত বছর এমন দিনে চামড়ারকেনা-বেচা জমে উঠলেও লোকসানের চিন্তায়অনেকেই চামড়া বিক্রি করেননি।

চামড়া আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদকমো: ইউসুফ বলেন, গত বছর লোকসান হওয়াতেএ বছর মাত্র ৩শ’ ৫০টি চামড়া কিনেছি।পাইকারী আড়তে এখন দাম কম, তাই বিক্রি নাকরে আড়তেই চামড়া রাখা হয়েছে। বাজারে দামবাড়লে বিক্রি করবো নয়ত, কয়েকদিন পরলোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বেশিরভাগ চামড়া ব্যবসায়ীরএকই অবস্থা। চামড়া বিক্রি না করে বেশী দামেরআশায় মজুদ করে দিয়েছেন ব্যবাসয়ীরা।আগামী দুই মাসের মধ্যে চামড়া বিক্রি করতে নাপারলেও এসব চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে।