যেভাবে এলো নন্দিত নরকে

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখকদের কথা বললে যে নামটি সবার আগে সামনে চলে আসে; সে নামটি নিঃসন্দেহে হুমায়ূন আহমেদের। তিনি তাঁর চর্চার মাধ্যমে সীমাহীন পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন এবং সে পাঠকপ্রিয়তার ধারা তাঁর মৃত্যুর পরও স্তিমিত হয়ে যায়নি।

হুমায়ূন আহমেদ প্রচুর লিখেছেন, গ্রন্থের সংখ্যা তাই তিনশ’র ঘর অনায়াসে পেরিয়ে গেছে। লেখা প্রচুর হলেও তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এটি হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলেও এটি তাঁর প্রথম লেখা নয়। তাঁর প্রথম লেখা উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’। প্রথম বই প্রকাশ বলেই হয়তো ‘নন্দিত নরকে’র প্রকাশনা নিয়ে হুমায়ূন আহমেদকে বিবিধ ঘটনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিলো। সেসব ঘটনাবলির সবটুকু যে সুখকর অভিজ্ঞতা তেমনটিও কিন্তু নয়।

১৯৭০ সাল। হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ছাত্র। থাকেন মহসিন হলে। এ সময়েই তিনি লিখে ফেলেন ‘নন্দিত নরকে’। কিন্তু পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এটি আর বই আকারে প্রকাশিত হয়নি। দেশ স্বাধীনের পর ‘নন্দিত নরকে’ প্রথমে ‘মুখপত্র’ নামে একটি সংকলনে প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসটি পড়ে আহমদ ছফা মুগ্ধ হন। তিনিই এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

১৯৭২ সালের শেষ দিকে খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি থেকে ‘নন্দিত নরকে’ বই আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়। হুমায়ূন আহমেদ নন্দিত নরকের যে পাণ্ডুলিপি খান ব্রাদার্সে জমা দিয়েছিলেন সেটি প্রথমে ছিলো তিন ফর্মা নয় পৃষ্ঠার।

সেজন্যই প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী ‘খান সাহেব’ একদিন তরুণ ঔপন্যাসিককে ডাকলেন ফর্মা মেলানোর জন্য। এ ঘটনার সরস বর্ণনা পাওয়া যায় হুমায়ূন আহমেদের জবানীতেই : ‘খান ব্রাদার্স এন্ড কোম্পানির মালিক খান সাহেব আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তাঁকে যথেষ্ট বিরক্ত মনে হলো। তিনি নন্দিত নরকে উপন্যাসের প্রুফ আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, বই ছোট হয়েছে, বড় করতে হবে। …আপনি একটা উপন্যাস লিখলেন তিন ফর্মা নয় পৃষ্ঠা। বাকি সাত পৃষ্ঠায় আমি কী করবো?

কাগজ-কলম নিয়ে বসেন। এখানেই ঠিক করেন।’ খান সাহেবের কথামতো হুমায়ূন আহমেদ সেখানে বসেই নতুন লেখা যুক্ত করলেন। তারপর বের হলো নন্দিত নরকে। বইটির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন বাংলা ভাষার বিশিষ্ট গবেষক ড. আহমদ শরীফ।রন্থটির প্রকাশের প্রথম দিকে হুমায়ূন আহমেদ পাঠকদের কাছ থেকে ওইভাবে সাড়া পাননি। উপন্যাসটি প্রথমে যে প্রচ্ছদে বের হয়েছিলো সে প্রচ্ছদ করেছিলেন লেখকের ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ভাস্কর শামীম শিকদার। কিন্তু প্রচ্ছদটি তেমন ভালো হয়নি।