মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সচেতন হতে হবে

নিউজ ডেস্ক:  মোবাইল এন্ড ইন্টারনেট ইউজার্স সোসাইটির উদ্যোগে শনিবার বিকালে মণি সিংহ ফরহাদ স্মৃতি ট্রাষ্টে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সমস্যা শীর্ষক মতবিনিময় সভা সংগঠনের চেয়ারম্যান লতিফুল বারী হামিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভার শুরুতে লতিফুল বারী হামিম বলেন গত শতকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যাপক বিকাশ সাধিত হয়েছে । পৃথিবীর অগ্রসরমান দেশগুলির সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগন অনেক দুুর এগিয়েছে । ডিজিটাল বাংলাদেশে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে দেশবাসী যেমন ব্যাপক সুফল পাচ্ছে তেমনি কুফলের বিষয়টিও দৃশ্যমান । ব্যবহারকারীদের খারাপ দিকগুলি সর্ম্পকে সচেতন করে তোলতে হবে । অতিমাত্রায় মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের কারনে স্বাস্হ্য সমস্যা, পরিবারের মধ্যে ফাটল, সামাজিক ও মূল্যবোধ গত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে । অসচেতনতার কারনে কোমল শিশু মনে বিরূপ ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে । সংগঠনকে অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি সচেতনতার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনাব খান সিদ্দিকুর রহমান, হাবিব উদ্দিন আহমেদ, আলী জামান, সমীরন সরকার, মো. ওয়াহিদুজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম, চৌধুরী নুরুল হুদা, এস এম হেলাল উদ্দিন সামিম, জাকির হোসেন আজাদী, মো জামাল উদ্দীন, সাইদ আজাহার, ইবনে দাউদ স্বাধীন, মো.বেলায়েত হোসেন আজাদী,মমিন উল্লা, এজাজ রহমান, এলিজা রহমান, প্রিন্স মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম সবুজ, সোয়াইব আহমেদ রাহাত, নুর মোহাম্মদ প্রমুখ ।

খান সিদ্দিকুর রহমান বলেন দেশের অবকাঠামো গত উন্নয়নের কারনে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সকল শ্রেনীর মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে । বিকাশে লেনদেনের মাধ্যমে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে ।

আলী জামান বলেন মোবাইল ফোনের কলরেট কমাতে হবে । মোবাইল কোম্পানি গুলিকে শেয়ার মার্কেটের সাথে যুক্ত হতে হবে । বর্তমানে গ্রামীন ফোন ছাড়া অন্য কেউ শেয়ার মার্কেটের সাথে যুক্ত না । ৩জি টেন্ডারের সময় মোবাইল কোম্পানি গুলি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শেয়ার মার্কেটে তালিকাবদ্ধ হবে । কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি যা খুবই দু:খজনক । ৪জি টেন্ডার আর্ন্তজাতিক ভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান ।

হাবিব উদ্দিন আহমেদ বলেন মোবাইল ও ইন্টারনটের প্যাকেজের মাধ্যমে মানষকে প্রলুব্ধ করে পকেটের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । মোবাইল ফোনের কলরেট পার্শ্ববতী সকল দেশের তুলনায় অনেক বেশী । ইমারজেন্সি ব্যালেনাসের রেট ব্যাংকের সুদের হারের চেয়ে অনেক বেশী । ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্যগ্রাফী ছড়িয়ে পড়ছে । পণ্যগ্রাফী নিয়ন্ত্রন করতে হবে অন্যথায় এর প্রভাবে দীর্ঘ দিনের লালিত সামাজিক মূল্যবোধ ধ্বংস হয়ে যাবে ।

মো ওয়াহিদুজ্জামান বলেন প্রশাসনের একশ্রেণীর কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় মোবাইল কোম্পানী গুলি কলড্রপ ও প্যাকেজের নামে ভোক্তাদের পকেট কাটছে । উক্ত কর্মকর্তাদের চিন্হিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত । মোবাইল কোম্পানী গুলি রাজস্ব ফাকী দিচ্ছে । ভ্যাট টেক্স ও জড়িমানার টাকা সময় মত পরিশোধ করছে না । যার জন্য উন্নয়ন কর্মক্ন্ড ব্যাহত হচ্ছে ।

বক্তারা আরো বলেন মোবাইল কোম্পানি গুলির মেসেজের যন্ত্রনায় মানুষ আজ অতিষ্ঠ । মেসেজ পাঠ করানোর জন্য গ্রাহকদের টাকা পরিশোথ করতে হবে । ইন্টারনেট ব্যবহারে সঠিক নিয়ম না থাকার কারনে পণ্যগ্রাফি বৃদ্ধি পাচ্ছে । ভুলন্ঠিত হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ ও ব্যাক্তি চরিত্র । এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে অন্যথায় ভবিষ্যত প্রজন্ম বিপথে পরিচালিত হবে । সৃষ্টি হবে বিকৃত ও মেধাশূন্য প্রজন্ম ।