বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয়

শামিম মাশরেকী: কফি আনান কমিশনের রির্পোট প্রকাশ করার পর ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষনসহ বিভিন্ন নির্যাতন মায়ানমার সরকার চালিয়ে আসছে কেন? তা আজ বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট।

আবেগে কিংবা ধর্মীয় কট্টর চিন্তা নিয়ে কখনো বলা উচিত নয় যে, ঘটনার নায়ক ও সহযোগিরা অহিংস ও জীব হত্যা বিরোধী অনুসারী। যারা গণহত্যা ও ধর্ষনের মতো অমানবিক ও বর্বরোচিত অধ্যায় ল্যাপন করছে তাদের কোনো ধর্ম নেই। আর যদি তারা বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারী বলে জোড় দাবি করে তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে গৌতমবুদ্ধের আর্দশ নীতি অমর্যাদায় ধুলোয় লুণ্ঠিত হবে। বৌদ্ধিষ্টগণ পথে প্রান্তরে হবে প্রশ্নবিদ্ধ! তবে এটা সত্য যে, দিনের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গারা মুসলিম বলেই অমানবিকভাবে তাদের ওপর ৪ দশক উর্দ্ধে নির্যাতন করে আসছে।

ফুটেজে দেখা যায়, নারী-শিশু ও পুরুষ হত্যা ও যুবতী মেয়েদের গণধর্ষন করে তারপর গলা কেটে, গুলি করে হত্যা, কখনো কখনো ডিজেল দিয়ে শত শত মানুষের সম্মুখে হত্যাকারীরা উল্লাসে মেতে উঠে পুড়িয়ে মারছে নিরীহ মানুষগুলোকে। জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ঘর-বাড়ি, ধ্বংস করেছে সঞ্চিত সম্পদ।

মানবিক কত বিপর্যয়ে পড়লে এ ঘটনা পর্যায়ক্রমে হয়ে আসছে ভাবা যায় না! প্রতিদিনেই নাফ নদীতে লাশ ভাসছে, ওপারে জ্বলছে আগুন আর চলছে গুলি, বোমার শব্দ শোনা যাচ্ছে থেমে থেমে।

শান্তিতে নোবেল পাওয়া অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার। ভাবলে খুবই অসুস্থতা জাগে। সু চির নোবেল পাওয়া আজ বিশ্বে হাস্যকর ও ক্ষোভের পরিণত হয়েছে। অনেক দেশেই সাধারণ মানুষের কাছে নোবেল এর মর্যাদা হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে সু চির নোবেল বিতর্কিত হওয়ায় দাবি হয়ে উঠেছে তা ফিরিয়ে নেবার।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২৭৮ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে লক্ষ লক্ষ শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ ও দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে সাময়িক আশ্রয় ও দেখভাল করার যে দায়িত্বটুকু নিয়েছেন তা সম্মপূর্ণ মানবিকবোধ থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে নয়।

ভৌগলিক কারণে এই অঞ্চলে বহু জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষের জনবসতি হওয়ায় পৈতৃক রক্তের সূত্রেও শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের দুঃখ খুবই সহজভাবে অনুধাবন করতে পারেন। তার মহানুভবতা মানুষ আজ হৃদয়ের গভীরে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাই এই সংকটে দুই হাজার একর জমির মধ্যে শরণার্থীদের সাময়িক বসবাসের ঠাঁই দেয়ার পাশাপাশি তাদের পূর্বপুরুষের বাস স্থানে ফিরি দেবার কথাও ব্যক্ত করেছেন।

জাতি সংঘের ত্রাণ কর্তাদের মতে, ৩ লক্ষ ৮০ হাজার শরণার্থী। কিন্তু স্থানীয় কিছু বেসরকারি সংস্থা বলছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংখ্যা ৮ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। কেননা, এখনো আসছে আবার ইতোমধ্যে অনেক শরণার্থী ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন স্থানে। তাদেরকে রেজিস্টেশনে আনা সহজ হবে না। ফলে বিভিন্ন সমস্যা অচিরেই দেখা দিবে।

স্থানীয় প্রশাসন ব্যতিব্যস্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালনে দৌড়ঝাপ করলেও কতটুকু এর সফলতা আনবে তা সামনে দেখার বিষয়।

বঙ্গবন্ধুর দেশ বাংলাদেশ। তাঁর সুযোগ্য সন্তান শেখ হাসিনা মানুষকে ভালোবাসেন বলেই তার এই নিরাপদ আশ্রয়।এখানে শুধু মুসলমানরাই আশ্রয় নেয়নি। ইতোমধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৭০টি পরিবার বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, ফকিরাবাজারে ৮৩ জনকে বিভিন্নভাবে হত্যা করে। তাদের অনেক মেয়ে ধর্ষনে শিকার হয়েছে। লুটে নেয় সোনা, টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন সম্পদ।

বিশ্বের বৃহৎ অন্যতম দেশ ভারত। মিয়ানমার পার্শ্ববর্তী দেশের ও হিন্দু সম্প্রদায়ের কট্টর পন্থী হয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ!

যারা মনুষ্যত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বিবেক চর্চায় মানুষকে সবচেয়ে উর্ধ্বে লালন-পালন করে তারা মিয়ানমার পৈশাচিক, বর্বরোচিত, বিভীষিকাময় নর হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাই মানবিকবোধের দায়িত্ব পালনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় বাংলাদেশে।

প্রিয়জনকে হারিয়ে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এসকল অসহায় মানুষ বাংলাদেশের ভূমিকা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মমত্ববোধ দেখে নিশ্চিত হয়েছে যে, তারা এখন এক নিরাপদ স্থানে যেখানে বর্বর মৃত্যুর দূত আসার কোনো সাধ্য নেই।

আজ বড় সত্য যে, শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন; বিশ্ব নন্দিত উজ্জ্বল তারকা হয়ে আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে গণমানুষের হৃদ মাঝারে।