সেনা অভিযান বন্ধে সু চির শেষ সুযোগ : জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব

নিউজ ডেস্ক: জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মনে করছেন সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করে রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানের ‘শেষ একটি সুযাগ’ মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সামনে রয়েছে। তিনি বলেছেন, সু চি এখনও সাড়া দিতে ব্যর্থ হলে তা ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ডেকে আনবে।

গত ২৪ অাগস্ট রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে হামলার পর শুরু হওয়া ওই সেনা অভিযানে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক হারে হত্যা-ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

ইতোমধ্যে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশে।

মিয়ানমার সরকার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে বলছে ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই’। বেসামরিক রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছে।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে আসছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু চি; আর এই ভাষণকেই মিয়ানমারের সামরিক অভিযান বন্ধের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

‘এখন যদি তিনি পরিস্থিতি পাল্টাতে না পারেন, তাহলে আমার মনে হয়, বিপর্যয়টা হবে ভয়ঙ্কর। আর সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কী করে এর সমাধান সম্ভব- তার কোনো উপায় আমি দেখছি না।’

গুতেরেস বলেন, মিয়ানমার যে এখনও অনেকখানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, তা বেশ স্পষ্ট। আর রাখাইনে যা ঘটছে, তা সেনাবাহিনীর কারণেই ঘটছে।

এই দমন-পীড়নে যে রোহিঙ্গারা দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছে, তাদের নিজেদের ঘরে ফেরার সুযোগ দিতে আবারও আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক চিঠিতে মহাসচিব গুতেরেস রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ওই চিঠিতে মায়ানমারের রাখাইনে নির্যাতনের মুখে যেভাবে দলে দলে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন আন্তোনিও গুতেরেস।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের ফলে আরো ব্যাপক এলাকাজুড়ে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাখাইনের সহিংসতা মানবিক বিপর্যয় হয়ে দেখা দিতে পারে।

এদিকে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যা-নির্যাতনে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে আসতে পারে।

মিয়ানমার থেকে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে বলে জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা অভিযান শুরু করার পর তারা বাংলাদেশের দিকে ছুটতে থাকে।

শনিবার জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, এক দিনে ১৮ হাজার নতুন রোহিঙ্গা আসায় উদ্বাস্তু সংখ্যঅ দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৯ হাজার।

এর আগে কয়েক দফায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছিল। রোহিঙ্গাদের ঢল অব্যাহত থাকায় কক্সবাজারের পরিস্থিতি আরো করুণ হচ্ছে।