শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে শনিবার ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিকালে ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আবুধাবির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

রবিবার সকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে আবুধাবি ছেড়ে যাবেন। ওই দিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ সেপ্টেম্বর বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। একই দিন তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত জাতিসংঘ সংস্কার বিষয়ক এবং জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘প্রিভেনশন অব সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন অ্যান্ড অ্যাবিউজ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন। এছাড়া, ওই দিন বিকালে কনভেনি কনফারেন্স সেন্টারে ‘গ্লোবাল ডিল ফর ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ’ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক ফলোআপ বৈঠকের আগে ভুটানের সঙ্গে দ্বিপক্ষিক বৈঠকের কথাও রয়েছে।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন। এর আগে তিনি ‘উইমেন্স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট ফর লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড’-এর ওপর জাতিসংঘ মহাসচিবের উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন। বিকালে তিনি জাতিসংঘ সদর দফতরে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ওআইসি কনটাক্ট গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেবেন। পরে মৌরিতাসের প্রধানমন্ত্রী প্রভিন্দ কুমার জুগনাউথের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ও কমনওয়েলথের বর্তমান চেয়ার-ইন অফিস মাল্টার প্রধানমন্ত্রী ড. জোসেফ মাসকেট আয়োজিত কমনওয়েলথ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ম্যাডিসন অ্যাভিনিউয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত শুভেচ্ছা সংবর্ধনায় অংশ নেবেন। রাতে তিনি নিউইয়র্কের ম্যারিয়ট স্কয়ারে স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায় আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ইউএনএইচকিউ-তে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণের ওপর চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। পরে ইউএনএইচকিউ-তে তার সঙ্গে এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট মিজ কেরস্তি কালজুলাইদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘এসডিজি ইমপ্লিমেন্টেশন, ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড মনিটরিং: শেয়ারিং ইনোভেশনস থ্রু সাউথ-সাউথ এবং ট্রাইয়াঙ্গুলার কো-অপারেশন’ শীর্ষ একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ইউএনএইচকিউ- তে সাউথ সাউথ কোঅপারেশনের ওপর ইউএনডিপি ও ইউএন অফিসের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে।

পরে, প্রধানমন্ত্রী ‘ক্রিয়েটিং আ পলিসি ভিশন ফর এসডিজি ফাইন্যান্স: ফ্যাসিলিট্যাটিং প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য এসডিজিস’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ইউএনএইচকিউ- তে ইউএনডিপি’র সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ ও কানাডা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বিসিআইইউ) আয়োজিত একটি গোলটেবিল মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন। পরে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের জন্য সার্বিক অর্থায়ন বিষয়ক জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত নেদারল্যান্ডের রানি ম্যাক্সিমার সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী ইস্যুতে ইথিওপিয়া প্রতিনিধি দল আয়োজিত একটি উচ্চ পর্যায়ের উন্মুক্ত আলোচনায় যোগ দেবেন। তার সঙ্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রফেসর ক্লাউস স্কওয়াব ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সদানন্দ ধুমির সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেলে ভার্জিনিয়ার আইবিএমের প্রেসিডেন্ট মেরি রোমেটি সাক্ষাৎ করবেন। এরপর কসোভোর প্রেসিডেন্ট হাসগিম থাচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী ইউএনএইচকিউ-তে পানি বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের চতুর্থ বৈঠকে যোগ দেবেন। এদিন নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার সঙ্গেও তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে তার এই জাতিসংঘ সফর নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে সড়কপথে ভার্জিনিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। ভার্জিনিয়ায় এক সপ্তাহ অবস্থানের পর তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। প্রধানমন্ত্রী ২ অক্টোবর দেশে ফিরবেন। বাসস।