মহামানবী শেখ হাসিনা

সৈয়দ শফীক সিংহী: ঘনবসতিপূর্ণ ছোট্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগাক্রান্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে মানবতার দীক্ষায় নিপীড়িত নির্যাতিত দেশত্যাগী রোহিঙা জনগোষ্ঠীকে সৎসাহস নিয়ে বিশ্বের মহাশক্তিধরদের তোয়াক্কা না করে দেশ এবং জাতির পক্ষ থেকে বুকপেতে আশ্রয়দাতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা…তোমাকে আবারো সালাম হে অগ্রজা..একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বজয়ী “মহামানবী”।

নোবেল তো তুচ্ছ একটি মানবসৃষ্ট পদক মাত্র ওটাতো সুচিও পেয়ে অশুচি করেছে ।

শতাব্দী শতাব্দী ধরে বংশানুক্রমিকভাবে প্রাপ্ত জন্মসূত্রে বার্মার নাগরিক, রোহিঙারা স্বদেশে কিভাবে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে ফিরে যাবে নিজ নিজ ঘরে সেটাই বড় বিষয় ।

আরাকান রাজসভায় ষোড়শ শতাব্দীতে জন্মগ্রহণকারী বাঙালী মহাকবি আলাওল যখন সভাসদ বা রাজকবি ছিলেন তারও আগে থেকে রোহিঙারা বার্মার বাসিন্দা । মহাকবি আলাওলের অসংখ্য লেখনিতে রোহিঙাদের সংস্কৃতি কৃষ্টি ও সামাজিক ঘটনা সমুহের র্বননা পাওয়া যায় । সমগ্র বর্মা জুড়ে এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পরিবেশ ও প্রকৃতির সাথে মানব সংগ্রামের অসংখ্য ইতিহাস । বাংলা সাহিত্যের অমর কথাসাহিত্যিক শর‍ৎচন্দ্রের উপন্যাসে বর্মা, রেঙ্গুন, রোহিংগাদের অসংখ্য র্বননা পাওয়া যায় ।

প্রায় ৪ শত বছরের ঐতিহাসিক সত্যকে তো ইচ্ছে করলেই মগের মুল্লুক বলে খ্যাত ব্রহ্মদেশ, বর্মা, বার্মা বর্তমান মায়ানমার বা মিয়ানমারের সামরিকজান্তারা বিশ্ববাসীর নাকের ডগার উপর দিয়ে মুছে ফেলতে পারবেনা। গত শতকে যে বর্মা ছিল সমৃদ্ধশালী দেশ আজ সামরিক জান্তার শোষন শাসনে জনগন নির্যাতিত, নিপীড়িত ও বাস্তহারা ।

নির্যাতিত মানুষের হৃদয় স্রষ্টার সিংহাসন ।

জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেই রোহিঙা দেশত্যাগীদের যে ভাবে আঁচল পেতে বরণ করেছেন। ওদের কাছে ও বিশ্ব বাসীর কাছে তিনি আজ  মহামানবী, স্রষ্টার কাছেও তিনি অবশ্যই পূণ্যবতীরূপে গৃহীত একজন ।

আমি বঙ্গরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিনা আড়ম্বরে দেশ এবং জাতির পক্ষ থেকে জন্মসূত্রে বাঙালীত্বের অধিকারে “মহামানবী” আখ্যায় ভূষিত করলাম ।
“সর্বশক্তিমান মঙ্গলময় তোমার সহায় হোন, সুস্বাস্থ্যসহ দীর্ঘায়ু দান করুন” ।

লেখক : কবি ও সাংবাদিক ।
সন্ধ্যা, ২৯ ভাদ্র-১৪২৪ বঙাব্দ, ঢাকা, বাংলাদেশ ।