আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করুন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:  রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে বক্তব্য দেয়ার সময় এই প্রস্তাব দেবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ তথ্য তুলে ধরেন। ১২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের উদ্বোধন হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অধিবেশন চলবে।

পররাষ্ট্র বলেন, জাতিসংঘের এবারের সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যু জোরালোভাবে তুলে ধরবে বাংলাদেশ। লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বানও জানাবেন শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক দমন-নিপীড়ন চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। সেখানে গণহত্যা চলছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে, যদিও মিয়ানমার তা অস্বীকার করে আসছে। নির্যাতনের মুখে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে মিয়ানমারের এই নাগরিকদের ফেরত নিতে দেশটির ওপর চাপ অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা এসেছে, যাদের বেশির ভাগই নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক। এর আগেও চার লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। অসহায় রোহিঙ্গাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ আজ সংকটের মুখোমুখি।

মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার যে নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে তা বন্ধের দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি তাদের নাগরিককে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিও তোলা হবে জোরালোভাবে। আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাবো। এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা করবেন। এবারের বক্তৃতায় শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকটের কারণ এবং এর সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানাবেন।