মঠবাড়িয়ায় ছেলের হাতে মা খুন ঘাতক গ্রেপ্তার

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ভোলমারায় ছেলের হাতে মা খুন হয়েছেন। ছেলে আব্দুর রহিম (৩০) কুপিয়ে মা সাজেদা বেগগকে (৬০) হত্যা করে লাশ বাড়ির সামনে পুকুরে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। নিহত সাজেদা বেগম উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনিয়নের ভোলমারা গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার খানের স্ত্রী। তিনি ৫ সন্তানের জননী ছিলেন। বড়মাছুয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন হাওলাদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সোমবার দুপুরে সাজেদা বেগম ছাগলের ঘাস সংগ্রহের জন্য বাড়ির সামনে ঘাস কাটতে যান। দুপুরে খাবার সময় স্ত্রী ঘরে ফিরে না আসায় স্বামী আব্দুর জব্বার খান স্ত্রীকে খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। নিহত সাজেদা বেগমের স্বামী আব্দুর জব্বার খান জানান, কোরবানীর ঈদের ৬ থেকে ৭ দিন আগে পুত্র রহিমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমের সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়।

বিষয়টি পুত্রবধূ ফাতেমা বেগম স্বামী রহিমকে জানায়। সেই থেকে রহিম তার মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত থাকেন। সোমবার দুপুরে সাজেদা বেগম বাড়ির সামনে ছাগলের ঘাস কাটতে যায়। পাশেই সবজি ক্ষেতে কাজ করতে থাকা পুত্র রহিম মায়ের সাথে ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে হাতে থাকা কোদাল দিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে লাশটি বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে পালিয়ে যায়।

বড়মাছুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশ্রাফ মিয়া জানান, মাকে হত্যার করে পালিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে ছেলেই ফোন করে মাকে হত্যার দায় স্বীকার করে উপজেলার উলুবাড়িয়ায় তার বড় বোন আমেনা বেগমের কাছে। খবর পেয়ে আমেনা বেগম ফোনে বাড়িতে হত্যার কথা জানিয়ে দ্রুত ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোমবার বিকেল ৫ টার দিকে পুকুর থেকে সাজেদা বেগমের লাশ উদ্ধার করে।

মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) মাজহারুল আমিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সাজেদা বেগমের শরীরে কুপিয়ে হত্যা করার একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদিকে সোমবার দিবাগত রাতে ওসি কেএম তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই নূর আমিন ও এসআই রমিজ অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার চরদোয়ানি গ্রাম থেকে মোবাইল ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে ঘাতক আব্দুর রহিম কে গ্রেপ্তার করেছে।