বিশ্ববিবেক কি জাগবে না?

নিউজ ডেস্ক:  মানবতা যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ, জীবন সেথায় অনিশ্চিত। মানুষের বর্বর আচরণে মানুষ নির্যাতিত-অসহায়। এই সংঘাতে রেহাই পাচ্ছে না শিশু-নারী-পুরুষ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত দমন-পীড়ন থেকে জীবন বাঁচাতে ভিটেমাটি ছেড়ে রোহিঙ্গারা আজ শরণার্থী। লাখ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশে। মিয়ানমার বিষয়ে বিশ্ববিবেক যেন অন্ধ। রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা যেন ডাঙায় বাঘ, নদীতে কুমির আর মাঝখানে তারা। পৃথিবীর সব মানুষের কান্নার শব্দ এক। স্বজন হারানোর ব্যথাও সবার এক। তা হলে কেন মানুষে মানুষে এই হানাহানি। রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনে ব্যথিত তারকারাও। তাদের কথাই তুলে ধরা হলোÑ

খুরশীদ আলম

এই সমস্যা শুধু আমাদের একার নয়। পুরো পৃথিবীর জন্যই বিরাট সমস্যা। সত্যিই মর্মান্তিক ঘটনা। সমাধানের জন্য আমাদের নেতারা চেষ্টা করছেন। আমরা শান্তি চাই। এই অশান্তি যাতে করে কেটে উঠতে পারি সে জন্য সারা পৃথিবীর রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি আহ্বান জানাব। আমাদের আশ্রয় দেওয়া আদৌ উচিত না অনুচিত সেটি সরকার ভালো-মন্দ বুঝবে। কে রোহিঙ্গা, কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে বাঙালি সেটি বড় কথা নয়। আমরা সবাই মানুষ। একাত্তরে আমরা যখন বিপদে পড়েছিলাম, তখন ভারত আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আমাদের সবারই উচিত একত্রে সহযোগিতা করা।

সৈয়দ আবদুল হাদী

রোহিঙ্গা সম্পর্কে আলাদা করে বলার কিছু নেই। এত বড় একটা মানবিক সমস্যা। এটি তো গণহত্যা। একাত্তরে আমাদের ওপর যে গণহত্যা হয়েছে, তাদেরটাও একই। তারা হিন্দু না মুসলমান এটি বড় কথা নয়। তারা মানুষ, এটিই তাদের বড় পরিচয়। তারা যে কোনো ধর্মের হোক না কেন প্রাণের ভয়ে আমাদের এখানে আশ্রয় নিতে চাচ্ছে, আমরাও তাদের আশ্রয় দিচ্ছি মানবিক কারণে। এই বোঝা তো আমাদের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের দেশই জনবহুল দেশ। একটি প্রবাদ কথা আছে, ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ আমাদের জন্য সেটি তাই। এ ছাড়া উপায়ও নেই। আমাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিতে হবে। কিন্তু সারা বিশ্ব রাজনৈতিক হিসাব-নিকেশটাই বড় করে দেখছে। মিয়ানমার সম্পদশালী দেশ। মানবিক দিকের চেয়েও এই সম্পদের দিকেই চোখটাই বেশি। মানবিক দিক তাদের কাছে গৌণ হয়ে গেছে। এত বড় একটা মানবিক বিপর্যয়ের পর বিশ্বনেতারা কেন চুপ করে আছেন? তারা অবশ্যই চাপ দিতে পারতেন মিয়ানমারকে। যেখানে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির মতো একজন ব্যক্তি আছেন। তিনি তো শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন, কী ধরনের রসিকতা এটি? শান্তিতে নোবেলপ্রাপ্ত নারীর দেশে এখন এই অবস্থা হচ্ছে, এটি হাস্যকর। এটি একটি রসিকতা। বিশ্ববিবেক কি জাগবে না? তাদের কখন নাড়া দেবে জানি না। কখন মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে জানি না। এটি করতেই হবে। এ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। রোহিঙ্গারা সেই দেশের মানুষ। তাদের নিতেই হবে ফিরিয়ে। না হলে এর পরিণতি কিন্তু ভালো হবে না। আমাদের জন্য তো খারাপই, মিয়ানমারের জন্য খুব সুখকর হবে না। ওরা ওদের নিজেদের মাতৃভূমি তো ছেড়ে দেবে না। একাত্তরে আমরা কি ছেড়ে দিয়েছিলাম?

প্রিন্স মাহমুদ

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন গীতিকবি প্রিন্স মাহমুদের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর তিনি ফেসবুকে লিখেছেন ‘নিয়মমাফিক’ শিরোনামের কবিতা। সেই কবিতাটি তুলে ধরা হলো প্রতিদিন রোহিঙ্গা নির্যাতনের ভয়াবহ চলমান চিত্র দেখি। বীভৎস, অমানবিক, হিংস্রতার শিকার চেহারাগুলোর দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ উহ-আহর পর, সমস্ত কাজ করি এবং নিয়মমাফিক ঘুমাতে যাই। লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ যে দেশের জন্য ভয়ঙ্করভাবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক হুমকি হতে পারে এই ভাবনা ছায়া ছায়া ভাবায় মাত্র, কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে পৌঁছে না।

মিয়ানমারে সম্মান ও অধিকার নিয়ে বসবাস করার ক্ষেত্র তৈরিতে রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে এই মুহূর্তে কী করণীয় তা ভাববে ‘বিশাল-চওড়া’ মানুষগুলো, আমি নই। থেঁতলে যাওয়া অনুভূতিতে কিছু ফিকশন, আর কিছু নন-ফিকশন বলে মনে হয় মানুষ হচ্ছে বিনোদন, মানুষের থেকে বড় কোনো বিনোদন এই পৃথিবীতে নেই। বীভৎস, অমানবিক, হিংস্রতার শিকার চেহারাগুলোর দিকে তাকিয়ে প্রতিবারই কিছুক্ষণ উহ-আহর পর, চাপমুক্ত থাকার সহজ কিছু টিপস নিয়ে দৈনন্দিন সমস্ত কাজ করি এবং নিয়মমাফিক ঘুমাতে যাই…

আসিফ আকবর

রোহিঙ্গা নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এটি বোঝাই যায়। দুঃখজনক হলেও সত্যি নরেন্দ্র মোদি কোনো কথাই বললেন না। বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো চুপ হয়ে আছে। বোঝাই যায় পুরো ইসরায়েলের পরিকল্পনা হচ্ছে। আর চাপটা আসছে বাংলাদেশের ওপর। এটি তো আজকের ঘটনা নয়? এটি দীর্ঘদিনের ইতিহাস। রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করা বিরাট চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের জন্য। রোহিঙ্গারা অস্ত্র, ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গেও জড়িত। তাদের বাংলাদেশর ভাবমূর্তি বিদেশে ব্যাপক ক্ষুণ্ধ হয়েছে। যেখানে আমাদের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তার পরও মানবিক ব্যাপার, আমরা মানবিক দিক থেকে আশ্রয় দিচ্ছি। শুধু মুসলমান হিসেবে না, বাঙালি জাতি হিসেবে পৃথিবীর যে কোনো নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আমরা আছি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হোক। তবে এ জন্য সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা করতে হবে। আমরা আশ্রয় দিয়ে যেন বিপদে না পড়ি।

ফেরদৌস

আধুনিক পৃথিবীতে মানবতার জয়গান গাইতে চায় সবাই। কিন্তু মানবতার কাছে হার মানছে অনেক কিছু। মানুষ মারছে মানুষকে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে জঘন্য নির্যাতন হচ্ছে মানুষের ওপর। শুধু নির্যাতন নয়, এ জন্য মানবতার পরাজয়। আমাদের দেশের মাটিতে লাখো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। অথচ একটি দেশ থেকে মৃত্যু ভয়ে পালিয়ে আসছে। পুরো বিশ্ব চেয়ে চেয়ে দেখছে। মানুষ কেন এমন হয়?

শাকিব খান

মানুষের প্রতি মানুষের মায়া-মমতা কমে যাচ্ছে দিন দিন। রাস্তায় কেউ আক্রান্ত হলে আমরা পাশে দাঁড়াই না। কারো বিপদে সাহায্য করতে চাই না। এসব নমুনা এখন পুরো পৃথিবীতে। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। কিন্তু আচরণ করছে শত্রুর মতো। তাদের দেশ থেকে রোহিঙ্গাদের বের করে দিচ্ছে। শুধু বেরই করে দিচ্ছে না, অনেক রোহিঙ্গাকে হত্যা করছে। বাদ পড়ছে না শিশুরাও। এমন বর্বরতার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।