সীমান্তে ল্যান্ড মাইন পেতেছে মিয়ানমার

 

নিউজ ডেস্ক:  বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে ল্যান্ড মাইন পেতে রাখছে মিয়ানমার। এসব ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণে রাখাইন অঞ্চলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস গণহত্যার কবল থেকে পালাতে থাকা বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা গত কয়েকদিনে হতাহত হয়েছেন। এদিকে গতকাল টেকনাফ ও ঘুমধুমে ১৪ রোহিঙ্গার লাশ পাওয়া গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, গত তিনদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তের একাংশ জুড়ে ল্যান্ড মাইন পেতে রাখছে মিয়ানমার, যাতে করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আর ফিরতে না পারে। বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে জানিয়েছেন, সীমান্তে মাইন পেতে রাখা এবং এসব মাইনে বাংলাদেশে পলায়নরত রোহিঙ্গা

সংবাদদাতা জানান, মিয়ানমার থেকে নৌপথে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গতকাল বুধবার ভোরের দিকে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনায় অন্তত তিনটি রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এরপর বিকাল পর্যন্ত নয়জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু মানুষ সাঁতরে তীরে উঠলেও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে উদ্ধার পাওয়া রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল হক বলেন, বদরমোকাম এলাকার উপকূলে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। ট্রলারডুবির পর অনেকে সাঁতরে তীরে উঠেছেন। এখান থেকে ছয়টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এস আই মোঃ মহির উদ্দিন খাঁনের নেতৃত্বে পুলিশ হ্নীলা মৌলভীবাজার সীমান্ত পয়েন্ট থেকে এক রোহিঙ্গা শিশুর লাশ উদ্ধার করেছেন। টেকনাফ সদরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ আলম বলেন, দর্গাছড়া থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ধ্যায় টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈনুদ্দিন খান বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত নয়জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের বলেছেন, বুধবার বিকালে উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়ায় (ঘুমধুম সীমান্ত) গ্রামবাসীরা নাফ নদীতে পাঁচ রোহিঙ্গার লাশ ভাসতে দেখে তাদের উদ্ধার করে। এদের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে। কারো পরিচয় জানা যায়নি।