হালুয়াঘাটে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়ে তিন ভাই-বোন দগ্ধ, আটক -৩


ময়মনসিংহ ব্যুারো :
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর নির্দেশে সহযোগি বন্ধু কর্তৃক এসিড নিক্ষেপে একই পরিবারের ৩ জন আহত। এসিডে তিন ভাই-বোন মরিয়ম (২৩), তার ভাই মোঃ রাসেল (২১) ও ছোট বোন মহিরুন (১৪) দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে বলে মরিয়মের পিতা মোঃ আবুল কাশেম জানান । তিনি আরও জানান, তার মেয়ে মরিয়ম ও ছেলে রাসেলের সারা শরীরর এসিডে জ্বলসে যায়। ঘটনার সাথে জড়িত রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটককৃতরা হলেন তালাকপ্রাপ্ত স্বামী মোঃ সোহেল রানা, বন্ধু আল-আমিন ও এসিড বিক্রেতা উজ্জল বনিক। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান এসিড সন্ত্রাসের সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের সহকারী পরিবালক ডাঃ লক্ষী নারায়ণ মজুমদার জানান, মরিয়ম ও মোঃ রাসেলের অবস্থা বেশ খারাপ হলেও তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করা হবে।
ভূক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার জুগলী ইউনিয়নের কালাপাগলা গ্রামের মোঃ আবুল কাশেমের কন্যা মরিয়মের সাথে হালুয়াঘাট সদর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মমতাজের পুত্র সোহেল রানার দুবছর আগে বিয়ে হয়। সোহেলের প্রথম স্ত্রী থাকায় সংসারে সব সময় ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। পরে মরিয়মকে নিয়ে হালুয়াঘাট বাজারে একাধিক বাসা ভাড়া নিয়ে ঘর সংসার করতে থাকে। এ ভাবে বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর মরিয়ম তার পিতার বাড়িতে চলে যায়। এদিকে সোহেলের সাথে যোগাযোগ না থাকায় মরিয়ম গত ৮ মাস আগে সোহেলকে তালাক দেয়। এরই জের ধরে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সারে নয়টায় সোহেলের নির্দেশে তার সহযোগি বন্ধু কালাপাগলা গ্রামের মোঃ জয়নালের পুত্র আলামিন মরিয়মের পিতার ঘরে প্রবেশ করে এসিড নিক্ষেপ করে। এ সময় ঘরে থাকা মরিয়ম (২৩), তার ভাই মোঃ রাসেল (২১), ও ছোট বোন মহিরুন (১৪) গুরুতর আহত হয় বলে জানান মরিয়মের পিতা মোঃ আবুল কাশেম। তিনি আরও জানান, তার মেয়ে মরিয়ম ও ছেলে রাসেলের সারা শরীরর এসিডে জ্বলসে যায়।
তাৎক্ষনিক ভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কামরুল হাসানকে সাথে নিয়ে প্রথমে হালুয়াঘাট হাসপাতালে নিয়ে আসলে রাত সাড়ে দশটায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। ঘটনার সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন হালুয়াঘাট থানার অফিসার ইনর্চাজ মোঃ কামরুল ইসলাম মিয়া ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের হালুয়াঘাট উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ বাবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হক লিটন। এ বিষয়ে এ.এস.পি সার্কেল আলমগীর পিপিএম বলেন, এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।