রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার যুদ্ধ চলবে : আরসা

নিউজ ডেস্ক : আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ঘোষণা দিয়েছে রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার যুদ্ধ চলবে ।

হংকংভিত্তিক অনলাইন পত্রিকা এশিয়া টাইমসে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে সংগঠনের প্রধান নেতার মুখপাত্র আবদুল্লাহ এ ঘোষণা দেন।

২০১২ সালের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিক্রিয়া থেকেই আরসার জন্ম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরসা ধর্মভিত্তিক নয়, জাতিগত অধিকারভিত্তিক সংগঠন।

প্রধান নেতার মুখপাত্র আবদুল্লাহ বলেন, সশস্ত্র বিদ্রোহ জেহাদ নয় বরং তারা জাতিগত মুক্তিকামী। মিয়ানমারের মধ্যেই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব এবং মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য।

আরসা প্রধান আবদুল্লাহ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।

মিয়ানমার সরকারকে সতর্ক করে ২৫ আগস্টে হামলার আগেও একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)।

ভিডিও বার্তায় তারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারকে সতর্ক করে।

ইউটিউবের মাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় আরসা নেতা আতাউল্লাহ আবু আম্মা জুনুনি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে এ লড়াই একান্তই নিজেদের অধিকারের উল্লেখ করে এতে বাংলাদেশের দুর্নাম হবে না বলে আশ্বস্ত করেন সংগঠনের কমান্ডার ইন-চার্জ বলে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি।

১৮ মিনিটের বেশি ওই ভিডিও বার্তায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকার দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর সেদেশের সেনা বাহিনীর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ, হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও পোড়াও অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করেন।

আতাউল্লাহ আবু আম্মা জুনুনি বিশ্বের নেতাদেরকে উদ্দ্যেশে বলেন, সেনারা মিয়ানমার রাশিডং গত ২০ দিন ধরে রোহিঙ্গাদের ঘিরে রেখেছে এটা খুবই দুঃখজনক। এমনকি সেনাদের সঙ্গে রাখাইনরা রয়েছে। এতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চলাফেলা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তাদের না খেয়ে মরতে হচ্ছে। এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

আশা করি আন্তজার্তিক নেতারা এ বিষয়ে মিয়ানমার উপর চাপ প্রয়োগ করবে। তাই প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশেকারী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহযোগিতার করার জন্য অনুরোধ জানান প্রতিবেশি দেশকে।