বিএনপি টালবাহানা শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নানা টালবাহানা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখন আবার নির্বাচন যতই সামনে ঘনিয়ে আসছে, তাদের (বিএনপির) আবারও নানা রকম অজুহাত।

গতকাল বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মানুষ হত্যার রাজনীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই তাদের (বিএনপির) রাজনীতি। যখন জনগণ প্রতিরোধ করেছে, তখন খালেদা জিয়া ঘরে ফিরে গেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার না আসাকে রাজনৈতিক ভুল আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নাই, এটা তাঁর সিদ্ধান্ত। আমি তো তাঁকে নির্বাচনে আনার জন্য চেষ্টা করেছিলাম।’

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের জন্য জিয়াউর রহমানকে পুনরায় অভিযুক্ত করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড যারা চালিয়েছে, তাদের বিচারের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর মোশতাক কিছুদিনের জন্য রাষ্ট্রপতি হয়। মোশতাক ক্ষমতায় আসার পর জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা খুব স্পষ্ট, মোশতাক যে ষড়যন্ত্র করেছিল, তার ডান হাত ছিল জেনারেল জিয়া। কর্নেল ফারুক তার ইন্টারভিউতে স্পষ্ট সে কথা বলেছে। জিয়াকে যখন সেনাপতি করে, তখন জিয়া বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি থেকে হটিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করে ক্ষমতা দখল করে।’

সেই সময়কার দেশের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর থেকে দেশে প্রতি রাতে কারফিউ থাকত। বাংলাদেশের কোনো মানুষ স্বাধীনভাবে চলতে পারেনি। আর এই আত্মস্বীকৃত খুনিরা গর্বভরে বলত, কে তাদের বিচার করবে? এই খুনিদেরই বিচারের হাত থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জিয়াউর রহমান।’ প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘পৃথিবীর কোন দেশে আছে যে খুনিদের বিচার হবে না সে জন্য আইন করা হয়?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে আমরা খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর করি। সেই খুনিদেরকেই বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে জিয়াউর রহমান পুরস্কৃত করেছিল।’

আদালতের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তো আমরা দেখি কত রিট হয়, সুয়োমোটো অর্ডার হয়। কিন্তু এত বড় অন্যায় যে হলো, তখন কি উচ্চ আদালতের বিবেকও সেখানে বন্দী ছিল? বা দেশে বড় বড় আইনজীবী থেকে শুরু করে এত বিবেকবানরা কোথায় ছিলেন? এখন একটু উনিশ থেকে বিশ হতে পারে না, এত কথা বলেন। কই, তাঁরা তো এত দিন সেভাবে কোনো প্রতিবাদ করেননি।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত।