ময়মনসিংহের এসপি সৈয়দ নূরুল ইসলামকে পুরস্কৃত করলেন আইজিপি

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ব্যুারো চীফ :
ভালুকার বোমা বানানোর কারখানায় উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করায় সন্তুষ্ট হয়ে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন অর রশিদকে ৪ লক্ষ টাকা পুরুস্কৃত করলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। তিনি গত মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট) বিকলে পুলিশ হেডকোয়ার্টসে আইজিপি’র নিজ কার্য্যালয়ে এ পুরস্কার প্রদান করেন। এ সময় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন। জঙ্গী আস্তানায় সফল অভিযান এবং জঙ্গীবাদ নিরসনে কাজ করায় ও ময়মনসিংহবাসীর জানমালের নিরাপত্তা প্রদান করায় জেলার নাগরিকবৃন্দ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গত ২৭ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে ২২ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে ৩টি বোমা ও ১টি গ্রেনেটসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরি সরঞ্জাম এবং জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। পরে বোমা গুলি বোম ডিসপোজাল একটি দল নিষ্কিয় করে। জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে নিহত জঙ্গী দলের সক্রীয় সদস্য আলম প্রামাণীক নাশকতা করার জন্য বোমা গুলি তৈরি করে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মারাত্মক এ কাজটির জন্য পুরষ্কৃত করায় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের প্রতি আরো উৎসাহিত হবেন। তিনি বলেন বর্তমান আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক পুলিশের ভালো কাজের জন্য পুরষ্কৃত করতে কার্পণ্য করেন না। যার প্রেক্ষিতে আইন শৃংখলার সদস্যরা দেশ ও জাতির স্বার্থে একং জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে ঝুঁকিপূর্ণ করতে কোনো দ্বিধা করেন না।
ভালুকা উপজেলার কাশর গ্রামের আজিম উদ্দিনের বাড়ীতে গত ২২শে আগষ্ট নাটোর সদর উপজেলার তেলকুপি গ্রামের আবুল কালাম প্রামানিকের ছেলে জেএমবি’র আত্মঘাতী দলের সদস্য বোমা বিশেষজ্ঞ পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামী আলম প্রামানিক (৩৫) তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ রাজমিস্ত্রী ও মোটর মেকানিকের পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নেয়।
পরে গত রোববার (২৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় সেই বাসার একটি কক্ষে বিকট শদ্ধে একটি বোমা বিস্ফোরণ হলে স্থানীয় বাসিন্দারা খোঁজ পেয়ে পুলিশে খবর দেয় । পুলিশ এসে বাড়ীটি ঘেরাও করে রাখে। রাত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা ও এলাকায় মাইকিং করার পর রাত্র ৯টার দিকে স্থানীয় আইডিয়ালের মোড় নামক স্থান থেকে আলম প্রামানিকের স্ত্রী পারভীন (৩০) ও দুই সন্তানকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে গত সোমবার দিন (২৮আগষ্ট) সেই বাড়ীতে র‌্যাব, সিআইডি, ডিবি, পুলিশ ও কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঘরটিতে তল্লাসী করে ৬টি প্রেসার কুকার বোমা,১টি হাত গ্রেনেড,বিপুল পরিমান বোমা তৈরীর সরঞ্জাম সহ আলম প্রামানিকে খন্ডিত লাশটি উদ্ধার করে।পরবর্তীতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বোমা গুলো নিস্কৃয় করে । আলম প্রামানিকের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করার মাধ্যমে ২২ ঘন্টার সফল অভিযান সমাপ্ত ঘোষনা করে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
অপরদিকে গত মঙ্গলবার দিন ভালুকা মডেল থানার এস আই জীবন চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে জেএমবি’র সদস্য মৃত আলম প্রামানিক ও তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে সন্ত্রাস বিরোধী ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন(নং৪৯)। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখায় স্থানান্তর করা হয় ।
ময়মনসিংহ ডিবির ওসি আশিকুর রহমান জানান,আমরা মামলাটি পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাত্র ৯টার দিকে আলম প্রামানিকের স্ত্রী পারভীন আক্তারকে আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমান্ড চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাঁকে ৭দিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করে।