ফুলবাড়ী সীমান্তে শিশুসহ ৩৭ নারী পুরুষকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

জাকারিয়া মিঞা, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা ঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট সীমান্ত থেকে ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে রোহিঙ্গা শরনার্থী সন্দেহে শিশুসহ ৩৭ জন নারী পুরুষকে আটক করেছে এলাকাবাসী। এর মধ্যে পালিয়েছে দুইজন। আটকৃতদের মধ্যে ছিল ৯ জন মহিলা, ৬ জন শিশু, ২২ জন পুরুষ। বিষয়টি বিজিবি ও পুলিশ জানতে পেরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের হেফাজতে রাখা হয়।

পরের দিন ৩০ আগস্ট বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের বাড়ি বাগেরহাট, সুনামগঞ্জ, পিরোজপুর, খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং বালাটারী ওয়ার্ড মেম্বার রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ২৯ আগস্ট রাত ৯ টার দিকে সীমান্ত সংলগ্ন বালারহাট বাজারের ব্র্যাক অফিস এলাকায় অটো রিকশায় আসা ৩৭ নারী পুরুষকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় এক বাড়িতে তাদেরকে নিয়ে আসেন।

এর মধ্যে দুই স্বামী-স্ত্রী পালিয়ে অন্যত্রে আশ্রয় নেয়। পরে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ও বিজিবিকে বিষয়টি জানালে তারা বাড়িটি ঘিরে রাখে। পরদিন ৩০ আগস্ট সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসার হেফাজতে আটকদের ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে রাখা হয়। ইউপি মেম্বার রাফিকুল আরও জানান তিনি শুনেছেন, ৩৭ নারী পুরুষ পার্শ্ববর্তী খালিশা কোটাল সীমান্ত থেকে বালারহাট বাজারে ফিরে এসেছেন। তারা দালালের মাধ্যমে এ সীমান্তে আসতে পারেন এমন ধারণা তার।

এতগুলো মানুষকে সীমান্ত থেকে ছেড়ে দেওয়ায় এলাকার সচেতন মানুষের মঝে দেখা দেয় নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছে এরা রোহিঙ্গা শরনার্থী হতে পারে। কেউ বলছে এতগুলো মানুষের সীমান্তে আসার বিষয়টিতে রয়েছে অপরাধ কর্মকান্ড। এ বিষয়টি প্রশাসনকে ভালো করে খতিয়ে দেখে তারপর আটকদের ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।

খালিশা কোটাল সীমান্তের আজিজুল হক (৫০) জানান, সীমান্তে একত্রিত এতো মানুষ আসার বিষয়টি প্রশাসন যথাযথভাবে ক্ষতিয়ে দেখে এর মূল কারনটি বের করলে এর সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্র ধরা পড়তো। আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত অপরাধী কে আমরা তা জানতে পারলাম না। এমন কথা জানিয়েছেন আরও অনেকে।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী থানার সার্কেল এএসপি আসাদুজ্জামান জানান, সীমান্তে আটককৃত শিশু ও নারী-পুরুষদের বাড়ি বাংলাদেশের বাগেরহাট, সুনামগঞ্জ, পিরোজপুর, খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হওয়ায় তাদের নাম ও ঠিকানা সংরক্ষণ করে এবং তাদের কাছ থেকে মুচলেকা বন্ড নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।