ভাণ্ডারিয়ায় গরুর হাটে উপচেপড়া ভিড়

নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সব চেয়ে বড় গরুর হাট পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায়। ভাণ্ডারিয়ায় সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার দুই দিন হাট বসে।

কোরবানিকে সামনে রেখে ভাণ্ডারিয়া বন্দরের পোনা নদী সংলগ্ন এ গরুর হাটে মঙ্গলবার হাটের দিন সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে , উপজেলার নদমুলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শিয়ালকাঠীর লিয়াকত মার্কেট হতে ধাওয়া ইউনিয়নের ফুলতলা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দুই পার্শ্বে বিক্রেতারা কোরবানির পশু গরু নিয়ে বসেছে বিক্রির জন্য। আর তা কিনতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কাউখালী, ইন্দুরকানী, রাজাপুর, কাঠালিয়া, মঠবাড়িয়া,পাথরঘাটা এমন কি জেলা পর্যায়ে পিরোজপুর,ঝালকাঠির বিভিন্ন উপজেলার ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

তবে গরুর হাটে গত বছরের তুলনায় এবছর দেশীয় খামারের পশুর আমদানি বেশি। দামও গতবছরের তুলনায় একটু বেশি বলে জানান বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ক্রেতারা। ছোট,বড় ও মাঝারি আকার ভেদে প্রতিটি গরুর মূল্য সর্বনিম্ন ৪০হাজার থেকে ৫০,৬০,৭০/৭৫ এবং সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার গরু রয়েছে। মঙ্গলবার হাটে স্থানীয় খমারী মো. আনোয়ারের গরুই ছিল বড় আকারের। রাজাপুরের চারাখালী গ্রামের বাসিন্দা ও ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের বিশিষ্ট গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন সর্বোচ্চ এক লাখ ৬৫হাজার টাকায় একটি গরু ক্রয় করেছেন।

রাজাপুরের নল বুনিয়ার শাহীন নামের এক ক্রেতা মাঝারি সাইজের একটি দেশি গরু কিনেছেন ৬৮হাজার টাকায়। এছাড়াও পিরোজপুরের হরিনা গাজীপুরের মো. খোকন একটি গরু কিনেছেন ৯৫হাজার টাকায় কিনেছেন ১টি কোরবানির পশুর গরু। এদিকে গরুর হাটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও জাল নোট ঠেকাতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে। গরুর স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য প্রাণী সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে মেডিকেল টিমও রয়েছে।

হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ের মধ্যে ক্রেতাদের সাথে থাকা উঠতি বয়সী যুবকেরা উল্লাস প্রকাশ করার দৃশ্যও দেখাগেছে হাটে । এ চিত্র দেখে মনে হয়েছে কোরবানির আগে গরুর হাটেই যেন তারা এক আনন্দের জানান দিচ্ছে। হাট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা সমাগম বেশি দেখে বিক্রেতারা তাদের গরুর দাম একটু বেশি হেঁকে বসে আছে। কারণ কোরবানির শেষ হাট গেছে গতকাল।

হাট পরিদর্শনে গিয়ে জাতীয়পার্টি জেপির উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে আলাপকালে তিনি জানতে পারেন যে অনেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত থাকায় ঠিকমত সময়ে আসতে না পাড়ায় কোরবানির গরু কিনতে সমস্যায় পড়তে পাড়ে সে জন্য পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের সাথে আলাপ করে আগামী বৃহস্পতিবারও একই স্থানে হাট বসার ঘোষণা দিয়েছে। যাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে কোরবানির গরু কিনতে সমস্যায় পড়তে না হয়।

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান,পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধার জন্য ভাণ্ডারিয়া বাজারের সরকারি কর ব্যক্তিগত ভাবে পরিশোধ করায় খাজনা ফ্রি থাকায় এবং বাজার সংলগ্ন একটি মাধ্যমিক স্কুলের উন্নয়নের জন্য গরু প্রতি একশ’ টাকা নাম মাত্র রশিদে গরু কেনার সুবিধা থাকায় ও অনেক দুর দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এ হাটে গরু কিনতে আসে।