রাউজানে সর্তাখালের ভাঙনে বিলীন রাস্তাঘাট ও বসতঘর

এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হালদার সংযুক্ত সর্তারখালের তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বসতঘর। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সর্তাখালের পাড়ে বসবাসকারী লোকজন। ইতোমধ্যে শত শত পরিবার বাড়ি ঘর হারিয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। রাক্ষুসে সর্তা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ঘর-বাড়ি, রাস্তা, কবর, মসজিদ, দোকানসহ বাপ-দাদার ভিটেমাটি। রাক্ষুসে সর্তা রাউজান উপজেলার বইজ্যা হাট, হলদিয়া, উত্তর সর্তা, দক্ষিণ সর্তা, গর্জনিয়া, চিকদাইর, গহিরা দলই নগর, গহিরা কোতোয়ালী ঘোনা, পশ্চিম ডাবুয়া এলাকার শত শত বসতঘর, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সর্তা গিলে খাচ্ছে হলদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এবার বর্ষা মৌসুমে বিলীন হয়ে গেছে মো. দেলা মিয়া, মো. মজলিশ, মো. মোহরম আলী, আবুল কাশেম ও জবদার বসতঘর। বাপ-দাদার ভিটে মাটি খালে বিলীন হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

দেখা গেছে, সর্তা পাড়ের শত শত বসতঘর হুমকির মধ্যে রয়েছে। ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানপুত্র সাজ্জাদ হোসেন জানান, ‘খালের ভাঙন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৮/১০ বসতঘর খালে বিলীন হয়ে গেছে। আরো শত শত বসতঘর, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ঝঁকির মধ্যে রয়েছে’ স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘খালে আমাদের এলাকার রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে। একারণে চলাচলের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’ এদিকে দলই নগর এলাকায়ও একই চিত্র। মানুষের বসতঘর, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা টান দিয়েছে সর্তা। ওই এলাকার লোকজন জানিয়েছে সর্তার বিভিন্ন অংশে খালের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এছাড়ও চিকদাইর ইউনিয়নের কালাচাঁন্দ চৌধুরী হাট থেকে দক্ষিণ সর্তা করিম ঘাটা সৃষ্টি মহাজন সেতু পর্যন্ত সড়কটি খালে বিলীন হয়ে যাওয়ায় সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সর্তার পাড় ঘেষা সড়কের ভাঙনরোধে বিভিন্ন এলাকার লোকজন বাঁশের খুঁটি পুঁতে বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করলেও রক্ষা হচ্ছে না পাড় । পানির ¯্রােতের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে সেসব উপকরণ। খালের ভাঙনে সড়কপথ বিলীন হয়ে যাওয়ায় এলাকার লোকজন ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দক্ষিণ সর্তা এলাকার তারা মেম্বার বাড়ির বাসিন্দা জনৈক কালু মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম বলেন, গত কয়েক বছরে এখানে অনেক বসতঘর খালে বিলীন হয়ে গেছে।

বসতঘর হারিয়ে তারা বিভিন্নস্থানে বাসাভাড়া নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। যাদের অর্থিক অবস্থা ভালো, তারা অন্যত্রে জায়গা-জমি নিয়ে ঘরবেঁধে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, এখানে প্রায় ১’শ ৪০টি বসতঘর রয়েছে, তৎমধ্যে প্রায় ২০-৩০টি ঝুঁকিতে আছে। যে কোন মুহুর্তে এসব ঘর-বাড়ি খালে গড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে গহিরা ইউনিয়নের সমাজ সেবক নাছির উদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, গহিরা ইউনিয়নের দলই নগর এলাকার কয়েকটি বাড়ির অর্ধশতাধিক বসতঘর ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খালে বিলীন হয়ে গেছে।

আরো শতাধিক বসতঘর ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের সর্তা পাড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছে নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের ফতেহ নগর মিলন মাস্টার ঘাটায় শতাধিক বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্তাখালের বিভিন্নস্থানের ভাঙন পরিদর্শন করে সবচেয়ে বেশি ভাঙন কবলিত এলাকা চিহ্নিত করে ভাঙন রোধে এগিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা ভোক্তভোগীদের।