ঈদযাত্রার আগেই যানজট

নিউজ ডেস্ক: সরকারি কর্মচারী সাঈদুর রহমান। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। ঈদ যাত্রার যানজটের ধকল থেকে রক্ষা পেতে গতকাল শুক্রবার সকালে সায়েদাবাদ থেকে বাসে স্ত্রী সন্তানদের তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘণ্টা খানেক পরই জানতে পারেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুতে যানজটে আটকা পড়েছেন স্বজনরা। চরম উত্কণ্ঠার প্রায় তিন ঘণ্টা পর জানতে পারেন যানজটে থেকে মুক্তি পেয়ে বাস কুমিল্লার পথে। এ প্রতিবেদকের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, ২৭ আগস্ট থেকে মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি শুরু হবে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তিনি আগেই স্বজনদের গ্রামে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কই না, ছুটি শুরুর আগেই গতকাল দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা। অপর দিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকট থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের পথে সিরাজগঞ্জে সড়ক সংস্কারের কারণে যানজট নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো মহাসড়কে সুখবর নেই। সব মিলিয়ে মহা-দুশ্চিন্তায় ভুগছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ। যদিও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জোর দিয়ে বলছেন, যে কোনো মূল্যে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা হবে।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে ট্রাক কাভার্ডভ্যানের চলাচল বেড়ে যাওয়ার কারণে যানজট হচ্ছে। কারণ পোশাক কারখানা ছুটি হয়ে যাচ্ছে। রফতানি পণ্য সঠিক সময় বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার কারণে ট্রাক কাভার্ডভ্যানের চলাচল বেড়েছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি লুত্ফর রহমান ও দাউদকান্দি সংবাদদাতা হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, গত দুই দিনে কয়েকটি দুর্ঘটনা এবং দাউদকান্দি ও মেঘনা টোলপ্লাজায় গাড়ির ওজন স্কেলিং এর কারণে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ও কলেজের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার কারণে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দাউদকান্দির গৌরীপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কে থেমে থেমে গাড়ি চলেছে। এরমধ্যে ১৩ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে সময় লেগেছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল জানান, ভাঙাচোরা রাস্তায় ভয়াবহ যানজটের কবলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়ক। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় যেতে দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ১০-১৫ ঘণ্টা। গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের অধিকাংশ স্থান থেকে পিচ ঢালাই উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, যানজটের মূল কারণ এ মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ভাঙাচোরা রাস্তা ও অসংখ্য খানা খন্দক ও ভাঙাচোরা ব্রিজ। এছাড়া চার লেনের কাজ হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং চার লেনের কাজে নিয়োজিত দুইটি কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাবে এ রোডে প্রতিনিয়তই যানজট হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল আলম বলেন, টানা বৃষ্টি থাকার কারণে ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত করতে একটু বিলম্ব হয়েছিল। এখন আবহাওয়া ভালো হওয়ায় মেরামতের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি মাহমুদুল কবীর জানান, সিরাজগঞ্জে শুধু মহাসড়ক নয়, আঞ্চলিক সড়কেরও বেহাল অবস্থা। প্রতিটি সড়ক খানাখন্দে ভরে গিয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে জোড়া-তালি দিয়ে চলছে এসব সড়ক-মহাসড়কের সংস্কার কাজ।

সিরাজগঞ্জ (সওজ) অতিরিক্ত দয়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হয়দার জানান, কোরবানি ঈদ সামনে রেখে আমরা দ্রুতগতিতে সংস্কার কাজ করে যাচ্ছি। আবহাওয়া ঠিক থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই মেরামতের কাজ শেষ হবে।

ভোলা প্রতিনিধি আহাদ চৌধুরী তুহিন জানান, বরিশাল, খুলনা, যশোর ও ফরিদপুর অঞ্চলের যে কোনো জেলা থেকে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট হয়ে প্রমত্তা মেঘনা পাড়ি দিয়ে লক্ষ্মীপুর হয়ে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ ২৬ জেলায় সহজে যাতায়াতের ভোলা সদর উপজেলার পরানগঞ্জ থেকে ইলিশা ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের এখন বেহাল দশা।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা মো. জাফর উল্লাহ জানান, নেত্রকোনা- কলমাকান্দা সড়কটি জেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। সরেজমিনে দেখা যায় কলমাকান্দা-নেত্রকোনা সড়কটিতে বাহাদুরকান্দা, বামনী, তেগুরিয়া, হিরাকান্দা, আশারানী, পাবই, উড়াদিঘি নামক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।

রংপুর প্রতিনিধি ওয়াদুদ আলী জানান, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবর্ষণ সৃষ্টি হওয়া বন্যায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের রংপুর জোনের ১০ জেলায় ৬২৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৭০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক তাত্ক্ষণিক মেরামত করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে সড়ক ও জনপথ অফিস সূত্রে জানা যায়।