আত্মহত্যার কুফল নিয়ে কুলাউড়ায় পুলিশের প্রচারনা

 

এম শাহবান রশীদ চৌধুরী মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: কুলাউড়া সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউছুফ আত্মহত্যার কুফল নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ও জনসাধারনদের আত্মহত্যা থেকে রক্ষাকল্পে কাজ শুরু করেছেন।

তিনি জানান তার আওতাধীন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখাসহ ৩ উপজেলায় গত দু’বছরে (জুলাই-১৫ থেকে জুন-১৭ পর্যন্ত) ফাঁসিতে এবং বিষপানে ৯০ জন আত্মহত্যা করেছে। এরমধ্যে চা-বাগানগুলোতে ১৯ জন রয়েছে। শুধু কুলাউড়া থানায় আত্মহত্যা করেছেন ২৮ জন।

এ অবস্থায় আত্মহত্যা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চা-বাগান ও মসজিদে মসজিদে পু’িলশের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পুলিশের চিঠিতে দু’বছরের কুলাউড়া, বড়লেখা এবং জুড়ী থানার আত্মহত্যার পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যক্তিজীবনে হতাশা ও পারিবারিক কলহের কারণে এসব ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া চিঠিতে মাদক ও চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আলোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউছুফ জানান, চলতি বছর কুলাউড়া সার্কেলে যোগ দেয়ার পর তার আওতাধীন ৩ থানা পরিদর্শনে গিয়ে বিগত দিনের আত্মহত্যার পরিসংখ্যান দেখে তিনি বিস্মিত হন। এ থেকেই আত্মহত্যার কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য তিনি উদ্যোগী হন। ইতিপুর্বে মসজিদের ইমামদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। এবার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা-মসজিদ ও চা-বাগানগুলোতে আত্মহত্যার কুফল নিয়ে আলোচনার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে আত্মহত্যার কুফল নিয়ে তিনি মতবিনিময় করেন ও অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য এবং ঝিমাই চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার মোঃ মনির হোসেনের হাতে এ সংক্রান্ত চিঠি পৌছে দেন। আত্মহত্যা প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞানী, কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য বলেন, সামজিক অস্থিরতার পাশপাশি পারিবারিক বন্ধনের অভাব, মাদক, হতাশা, পারস্পরিক সহমর্মিতার অভাব এবং দুঃখ ও হতাশা প্রকাশের সুযোগ না পেয়ে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউছুফ তার এ কার্যক্রমে সবাই সহযোগিতা করে আত্মহত্যার মত এ সামাজিক ব্যাধি রোধে এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদী।