সরকারকে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে

নিউজ ডেস্ক: ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে ঈদে নিরাপদ যাতায়াত বিষয়ক পরামর্শমূলক আলোচনা সভায় তারা এ আহ্বান জানান।

বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মনজুরুল আহসান খানের সভাপতিত্বে সভায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী বলেন, প্রতি ঈদে ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের কাছে যায়। তাই প্রতি বছর ঈদে ঝামেলামুক্ত যাতায়াত নিয়ে নানা সমস্যা ও শঙ্কা দেখা দেয় এবং ঈদের আগে তড়িঘড়ি করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

এভাবে শুধু ঈদকে সামনে রেখে দায়সারা সমাধানের চেষ্টা করলে হবে না, সঙ্কট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। এবার সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন এই পরিবহন বিশেষজ্ঞ।

সভাপতির বক্তব্যে মনজুরুল আহসান খান বলেন, প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও অতি বর্ষণের কারণে অনেক সড়ক ও রেলপথ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নৌপথের ওপর চাপ বেশি পড়বে। তাই এবার ঈদে সড়ক, নৌ ও রেলপথ তথা সমগ্র পরিবহন ব্যবস্থাই ঝুঁকিপূর্ণ। জনগণের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু রাষ্ট্রের চালক সরকার, তাই নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি রোধে সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

নিখিল ভদ্রর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সিটিজেন্স রাইট্স মুভমেন্টের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. এনায়েতুর রহিম, সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট তাসনিম রানা, যাত্রী অধিকার পরিষদের সভাপতি তুসার রেহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিব্লিউটিএ) সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক বাদশা উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল এবং নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক, সেকেন্দার হায়াৎ।

আলোচনা সভায় ঈদ যাত্রায় জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে সরকারের উদ্দেশে ৮টি অতি জরুরি সুপারিশ উত্থাপন করা হয়।