খাদ্যপণ্যের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে হবে

নিউজ ডেস্ক:  দেশে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা এবং রফতানি বাণিজ্যে ভালো অবস্থানের জন্য খাদ্যপণ্যের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা তদারকি শক্তিশালী করা, নিরপেক্ষ তদারকি সংস্থা প্রতিষ্ঠা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়াতে হবে। এ রকম কয়েকটি সুপারিশের মধ্য দিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক নিরাপদ খাদ্য সম্মেলন সমাপ্ত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। সম্মেলনের অন্য সুপারিশগুলো হচ্ছে_ কৃষি উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পেঁৗছানো পর্যন্ত সব পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটকে (বিএসটিআই) শক্তিশালী করা, মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিদর্শকদের দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি।

দু’দিনের সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন কম হবে। আমদানির মাধ্যমে তা সমন্বয় করা হবে। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর গত তিন বছর ধরে কাজ করছে। গত বছর এ-সংক্রান্ত ছয় হাজার ৬০টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচ হাজার ৬৬২টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দায়ীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

গত বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। সম্মেলনে জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে আসা খাদ্যবিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তাসহ ৪০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্র্রি (ফিকি) এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) সম্মেলনের মূল আয়োজন করে। বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি (বিএফএসএ), বিএসটিআইসহ ১৯টি স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতা দেয়। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ :সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব’ ।

বক্তৃতায় ২১ আগস্টের হামলার প্রসঙ্গ এনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ওই অভিযান চালানো হয়েছে হাওয়া ভবন থেকে। তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল নিষ্ক্রিয়। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ এনে তোফায়েল আহমেদ বলেন, সেই সময় নির্বাচন না হলে অশুভ শক্তি ক্ষমতায় আসত। সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করার জন্য বিএনপিকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কিন্তু তারা আসেনি।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশ ভালো আছে। অর্থনীতির সব সূচকে ইতিবাচক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের বাণিজ্য বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আঙ্কটাডের তথ্য মতে, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ আসছে। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বহুজাতিক কোম্পানি কোকাকোলা সম্প্রতি সাড়ে সাত কোটি ডলারের বিনিয়োগ করেছে। আরও বিনিয়োগ করার পরিল্পনার কথা তারা জানিয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার জনগণকে খাদ্য নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। এখন নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৮টি মন্ত্রণালয় এবং ৪৮৩টি সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। উন্নত বিশ্বের অনুসরণে রফতানি পণ্যের সঙ্গে দেশের অলিগলিতে বিক্রি করা খাদ্যও নিরাপদ করতে চান তারা। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যবসায়িক চেম্বার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সমাপনী অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএসটিআইর মহাপরিচালক সাইফুল হাসীব, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএসএফএ) চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক, জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (এফএও) ন্যাশনাল টিম লিডার এ কে এম নুরুল আফসার ও ফিকির সভাপতি রূপালী চৌধুরী।

সম্মেলনের দুই দিনে মোট ৭টি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন অধিবেশনে দেশি-বিদেশি বক্তারা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এসব অধিবেশনে জানানো হয়, এ দেশে এখনও অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করছে। এতে করে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির শিকার হচ্ছে তারা। এ অবস্থায় যে কোনো উপায়ে খাদ্য নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য দিয়ে তারা বলেন, এ দেশে ২৫ লাখ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাদ্য শিল্পোদ্যোক্তা রয়েছেন।