বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের আরেক নাম – ড. আতিউর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদন : “আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর দারিদ্র্য ও দূর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার আদর্শে বিশস্ত হই তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষ তাদের আশা ও আকাঙক্ষার সম্মিলনে ধুমধাম এবং জাঁকজমকের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে পারবেন। তার পরপরই আমরা পালন করবো দ্রুতবেগে এগিয়ে চলা বাংলাদশের সূবর্ণজয়ন্তী।”

আজ (২৪ আগস্ট ২০১৭) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অডিটোরিয়ামে “বঙ্গবন্ধু: জীবন ও কর্ম” শিরোনামে স্মারক বক্তৃতা করার সময় একথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন, এদেশের মানুষও তাঁকে তেমনি ভালোবাসতো। সে কারণেই তিনি জেল-জুলুম সত্ত্বেও আশাবাদী জীবন কাটাতেন এবং বিশ্বাস করতেন এদশের মানুষের মুক্তির দিন আসবেই। তিনি সেই প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়ন করেছিলেন। মৃত্যুর পরোয়া না করে, নিজের ও পরিবারের সকল সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে এদেশকে তিনি স্বাধীন করতে পেরেছিলেন।

ড. আতিউর বলেন খুব অল্প বয়সেই বঙ্গবন্ধুর গরীব-হিতৈষী মন-মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। গরীব ছাত্রদের লেখাপড়া, ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত মানুষের জন্য সহায়তার উদ্যোগ, এমন কি জেলে থাকার সময় অন্যান্য কারাবন্দীদের জীবনের সুখ-দু:খ নিয়ে ভাবিত হওয়া এসব কিছু থেকেই বোঝা যায় তিনি সব সময়ই নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে চেষ্টা করেছেন তাঁর চারপাশের মানুষ যাতে করে ভালো থাকে সে ব্যবস্থা করতে। স্মারক বক্তৃতায় ড. আতিউর আরও বলেন বঙ্গবন্ধু জানতেন যে রাজনৈতিক সংগ্রাম ছাড়া এদেশের মানুষের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাওয়ার আর কোন পথ নেই।

তাই অত্যন্ত তরুণ বয়স থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, আর নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে মাঠ পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে উঠে এসেছেন, হয়েছেন জাতীয় নেতা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল জাতীয় আন্দোলনে ছিলেন সামনের সারিতে। শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে হয়েছেন জাতির পিতা।