মৎস্যজীবিদের ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে: ড. আতিউর

বিশেষ প্রতিবেদন : “ইলিশ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন মৎসজীবিরা যাতে সুদে ভর্তুকি সুবিধাসহ প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পান তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী”- এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ২২ আগস্ট , ২০১৭ কোলকাতায় ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার এসোসিয়েশন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেছেন। অন্যান্য প্যানেল আলোচকদের মধ্যে ছিলেন ভারতের পক্ষে রাষ্ট্রদূত শিব মুখার্জি এবং ভি. ভিদ্যাগিরি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব।

ড. আতিউর তাঁর বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশ ও ভারতের ইলিশ-নির্ভর মৎস্যজীবিদের কোন যৌথ পরিচয় নেই এবং এ কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের মতো অন্যান্য সুযোগ সুবিধাগুলোর জন্য তাঁরা নিজেদের দাবী-দাওয়াগুলো তুলে ধরতে পারছেন না বলে অভিমত দেন। বর্তমানে এই মৎস্যজীবিরা আড়তদারদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে অনানুষ্ঠানিক ঋণ নিচ্ছেন। আবার যে ইলিশ ধরছেন তা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই দূরবস্থা থেকে তাদেরকে বের করতে হলে, এ ধরণের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবিদের দল তৈরি করে সেই দলের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মৎস্যজীবিদের এ ধরণের দলগুলো উপকূল অঞ্চলে বিশেষত যেখানে ইলিশ পাওয়া যায় সেসব অঞ্চলে যে এনজিওগুলো কাজ করছে তাদের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে পারে। তবে প্রচলিত ক্ষুদ্র ঋণের মডেল এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে এ ধরণের বেশ কিছু উদ্ভাবনি ঋণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে এবং এখনও বাস্তবায়িত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ড. আতিউর বর্গাচাষিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের কর্মসূচির কথা বলেন। এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এনজিওদের সাথে এক যোগে কাজ করে চার লাখেরও বেশি বর্গাচাষির জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করেছে। ঋণ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ষাট ভাগেরও বেশি নারী। এই নারীরা ঋণ সুবিধা পেয়ে পরিবারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও ভূমিকার রাখছেন। একই ধরণের সহজ শর্তের ঋণের কর্মসূচির আওতায় ঋণ দেয়া হচ্ছে মসলা চাষি এবং গবাদি পশু পালনকারিদের জন্যও। এসব ঋণ কর্মসূচিতে সুদে সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থাও রয়েছে। ক্ষুদ্র মৎস্যজীবিদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য এসব কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একই ধরণের আর্থিক অন্তর্ভূক্তি কর্মসূচি নেয়া যেতে পারে।

ড. আতিউর আরও বলেন যেহেতু বাংলাদেশ ও ভারতে যে জায়গাগুলোতে ইলিশ পাওয়া যায় সেগুলো একই প্রতিবেশগত অঞ্চলভুক্ত, তাই দুই দেশ পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে কোন সময়ে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হবে সে বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পাশাপাশি যে সময়ে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে তখন ইলিশ-নির্ভর মৎস্যজীবিদের বিকল্প উপার্জনের ব্যবস্থার জন্যও যৌথ সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। সব শেষে তিনি বলেন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই মূহুর্তে ইতিবাচক রাজনৈতিক বোঝাপড়া রয়েছে এবং এই সুযোগে নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত নেয়া গেলে তা ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে। প্যানেল আলোচকদের আলোচনার পর প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।