সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাঃ করনীয়

সালমা আক্তার নিশু: শিক্ষার মূল ভিত্তি হল প্রামিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা মজবুত না হলে মাধ্যমিক, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ের শিক্ষা সফল হবে না। তাই শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাকে মজবুত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক। শিক্ষকদের যথাযথ বেতন ও মর্যাদা দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল এসব মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব। তব হলেই সবার জন্য মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষার স্বপ্ন পূরন হবে।

সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরনেও সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বাধ্যবাধকতা মানতেও প্রাথমিক শিক্ষাখাতে আইনিয়োগ বাড়ানেব উচিত। বলা হয়ে থাকে –যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বেশি সে দেশ তত উন্নত। প্রাথমিক স্তরের প্রতিটি শিশুই দেশের সম্পদ। এ সকল শিশুকে তাদের লক্ষে পৌচাতে হলে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। তা ছাড়া বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকার বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুকে ভর্তির আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই সঠিক শিশু জরিপ করা।

বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় ও উন্নত হিসেবে গড়ে তোলা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানকে আধুনিক পদ্ধতি , কৌশল ও আকর্ষণীয়, শিক্ষা উপকরন ব্যবহারের মাধ্যমে আরো কার্যকর করা। প্রতিটি শিশুকে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় ইতিহাস জানানো প্রয়োজন। ধর্মীয়, নৈতিক ও উন্নত চারিত্রিক গুনাবলি অর্জনে সহায়তা করা। এক্ষেত্রে শিক্ষক, বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষা প্র
শাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিগন উদ্যাগী ভূমিকা পালন করতে পারে।

অন্যদিকে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০, ভিশন ২০২১,২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনেও আমরা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চতকরনেও অঙ্গীকারবদ্ধ। আর্তমানে সরকারী বেসরকারী উদ্যাগে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুরোতে উপবৃত্তি, মিড ডে মিল চালু করার মাধ্যমে শিশুদেরকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ও শিশুদের অপুষ্টি দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে । এগুলো নি:সনন্দেহে প্রসংসনীয় ও কার্যকর উদ্যাগ। আর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নাই।

জরুরি ভিত্তিতে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মান করতে হবে। আধুনিক ও উন্নত ফিটিংস দ্বারা বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে হবে। সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শীক্ষাকে নিশ্চিত করার লক্ষকে সামনে রেখে ২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমকে পরিমার্জন করা হয়েছে। এই শিক্ষাক্রমকে সর্বস্তরে যথাযথভাবে বিস্তরন ঘটাতে হবে । যোগ্যতাভিত্তিক সঅভীক্ষা প্রনয়ন ও মূলয়ন ব্যবস্থা আরো কার্যকর করতে হবে। তবেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুফল আসবে।

আরোচনার পরিপেক্ষিতে উপসংহারে আমরা বলতে পারি যে, প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মান, পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মান, পর্যাপ্ত মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও মক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সাধারন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, আরো বেশি বেশি সরকারী বেসরকারী উদ্যাগ গ্রহন করা হলে সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমরা রবার জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রাথমিক শিক্ষা আশা করি ।

সালসা আক্তার নিশু
প্রধান শিক্ষক করিমখালী সরকারী প্রাথমবক বিদ্যালয়
কেরানীগঞ্জ, ঢাকা