যুক্তরাষ্ট্রে নির্মম হামলার হুমকি উ. কোরিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাবে বলে আবার হুমকি দিল উত্তর কোরিয়া। দেশটি বলেছে, শুধু গুয়াম বা হাওয়াই নয়, দেশটির মূল ভূখণ্ডের যেকোনো জায়গায় হামলা চালাতে তারা সক্ষম। আর সেই হামলা হবে ‘বড় নির্মম’। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর এক দিন আগে গতকাল রোববার এই হুমকি দিল কমিউনিস্ট শাসিত দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘আলচি ফ্রিডম গার্ডিয়ান’ নামের যৌথ মহড়া শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। বার্ষিক এই মহড়ার পরিকল্পনা বেশ কয়েক মাস ধরেই করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। তবে উত্তর কোরিয়া মনে করে, তাদের দেশে আক্রমণ চালানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের মহড়ার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রডং সিনমুন-এ এক সতর্ক বার্তায় বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওই সামরিক মহড়া ‘একটি বেপরোয়া আচরণ হবে, যা পরিস্থিতিকে পারমাণবিক যুদ্ধের অনিয়ন্ত্রিত দশার দিকে ঠেলে দেবে।’ ওই বার্তায় আরও বলা হয়, পিয়ংইয়ংয়ের সেনাবাহিনী শুধু গুয়াম বা হাওয়াই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় ‘নির্মম হামলা’ চালাতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়া আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ‘শক্তিশালী অধিকারী’—এ কথা উল্লেখ করে সংবাদপত্রটি বলেছে, যেকোনো জায়গা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত করতে সক্ষম।

রডং সিনমুন-এ বলা হয়, ‘শত্রু দমনে কোরিয়ান পিপল’স আর্মি পুরোপুরি প্রস্তুত এবং সদা সতর্ক। যুদ্ধের কোনো ইঙ্গিত মিললেই এই সেনাবাহিনী মুহূর্তের মধ্যে অটল পদক্ষেপ নেবে।’

কিছুদিন আগেই পিয়ংইয়ং ঘোষণা দেয়, প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন গুয়াম দ্বীপ লক্ষ্য করে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়ার নির্দেশ দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার সরকারের এক বিবৃতিতেও বলা হয়, মার্কিনদের ‘নির্বোধ কার্যক্রম’ আরও কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করতে চান কিম।

তবে গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় থাকলেও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করাই ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। ম্যাটিস আরও স্পষ্ট করে বলেন, উত্তর কোরিয়া যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, শুধু তবেই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাববে তাঁর দেশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনও তাঁর দেশের নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কোরীয় উপদ্বীপে আর কোনো যুদ্ধ হবে না। তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে নিশ্চিত করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা না করে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

চীনও বারবার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার প্রতি আরও নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস-এর এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক ‘মহড়া নিশ্চিতভাবে পিয়ংইয়ংকে আরও উসকানি দেবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘দক্ষিণ কোরিয়া যদি কোরীয় উপদ্বীপে কোনো যুদ্ধ না চায়, তাহলে দেশটির উচিত হবে এই মহড়া বন্ধ করা।’