গৗরীপুরে সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে শনিবার (১৯ আগস্ট/১৭) খাদ্য অধিদপ্তরের সীলমোহরকৃত ৩০কেজির সেলাইযুক্ত সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা বরাবরের মতো এবারও অস্বীকার করলেন, এই চাল শ্যামগঞ্জ খাদ্যগুদামের নয়।

দেশে বন্যাপীড়িত মানুষ যখন না খেয়ে দিনযাপন করছে, সেই সময়েও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-অনিয়মে জড়িয়ে থাকায় বিস্মৃয় প্রকাশ করেন গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির। তিনি বলেন, বস্তায় খাদ্য গুদামের সীল আছে, যে দোকানে নামানো হচ্ছে। সেই দোকানদার, লেবার-চালকদের আটক করলেই মূলহোতা বেড়িয়ে আসবে।

প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদার, হ্যান্ডট্রলি চালকরা জানান, শ্যামগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে চালভর্তি হ্যান্ডট্রলি শ্যামগঞ্জ বাজারের চালের ব্যবসায়ী শাহ জাহানের দোকানে নেয়া হয়। খাদ্যগুদামের কালোবাজারী সিন্ডিকেটের অন্যতম এই ব্যবসায়ীর সাথে আতাঁত করেই শ্যামগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে নিয়মিত চাল পাচার হয়ে থাকে।

শনিবার দুপুরে সরকারি সীলমোহরকৃত চালের বস্তা নামানোর সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে শ’শ উৎসুক জনতা ভিড় করে। শ্যামগঞ্জ খাদ্য গুদামে ইতোপূর্বে প্রতিবস্তায় কম দেয়ার প্রতিবাদে চেয়ারম্যানরা অভিযোগও করেছেন। উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ জানান, গত এক বছরে ৩০ কেজির বস্তায় ৩ কেজি করে কম দিয়ে শুধুমাত্র তার ইউনিয়নেই ৯ মেট্রিকটন চাল কম দেয়া হয়েছে। প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক, ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদনও করার ৮মাসেও কোন ব্যবস্থা নেননি।

সাংবাদিকদের ছবি তোলায় খাদ্য গুদাম সিন্ডিকেট সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। হামলা এড়াতে দূরে দাঁড়িয়ে ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও ইউএনও’কে খবর দেয়া হয়। এই সময়েই ব্যবসায়ী শাহজাহান মুর্হূতের মধ্যেই হ্যান্ডট্রলি ভর্তি ৩টন চাল গায়েব করে দেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার ঘটনাস্থলে গেলেও কালোবাজারী সিন্ডিকেটের কোন সদস্যকে গ্রেফতার বা চাল জব্দ করতে পারেননি। তিনি জানান, আমি কোন চালের বস্তা দেখতে পাইনি। চাল ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, আমার দোকানে হ্যান্ডট্রলির চালক চাল নিয়ে এসেছিলো, পছন্দ না হওয়ায় ফেরত দিয়েছি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাল তার দোকানে ভিতরেই শ্রমিকরা নিয়ে যায়। ইউএনও আসার খবরে চালের বস্তা দ্রæত সরিয়ে ফেল