অ্যাপলকে অর্থ দেয় গুগল

নিউজ ডেস্ক: ইন্টারনেটে থাকা কোটি কোটি তথ্য বা ডেটা খুঁজতে প্রায় সবাই গুগলের শরণাপন্ন হন। শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল কম্পিউটার ইনকরপোরেটেডের পণ্যগুলোতেও প্রধান সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে ব্যবহৃত হয় গুগল। তবে আপনি জানেন কি, অ্যাপলের আইফোন বা আইপ্যাডে প্রধান সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে নিজেদের স্থান ধরে রাখতে প্রতিবছর ৩০০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার গুনতে হয় গুগলকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্নস্টেইনের গবেষক টনি স্যাককনগির করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই বেরিয়ে আসে। আর তা গত সোমবার প্রকাশ করা হয়।

জনসম্মুখে অ্যাপল কখনোই তাদের কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়ে কথা না বলায় কবে থেকে গুগলের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি করে তার নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। তবে ২০১৪ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আইফোন বা আইপ্যাড থেকে গুগল, যা আয় করে তার নির্দিষ্ট লভ্যাংশের দাবি জানায় অ্যাপল। সেই দাবি আদায়ে আদালত পর্যন্ত যেতে হয় অ্যাপলকে। তখনই প্রথম গুগল ও অ্যাপলের মধ্যকার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে। আদালতের রায়ে হেরে গিয়ে গুগল প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার দেয় অ্যাপলকে।

বার্নস্টেইনের গবেষক স্যাককনগি বলছেন, সেই প্রদেয় লভ্যাংশের হার ছিল প্রায় ৩৪ শতাংশ। এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ বছর অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেম থেকে আসা মুনাফার প্রায় ৫ শতাংশ এসেছে গুগল থেকে। ফলে অ্যাপলের মোট মুনাফা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। স্যাককনগি ও তার দল ২০১৪ সালে অ্যাপলকে দেওয়া গুগলের অর্থের পরিমাণকে ভিত্তি করেই দুই প্রতিষ্ঠানের বাজার গবেষণার মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ রয়েছে, গুগল অ্যাপলকে যে অর্থ প্রদান করে তা পুরোটাই অ্যাপলের মুনাফার অংশ। তাই পরবর্তী চুক্তি পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত গুগল থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পাবে অ্যাপল। তবে অ্যাপল তাদের অ্যাপ স্টোরে থাকা জনপ্রিয় অ্যাপ যেমন অ্যামাজন, ফেসবুক, গুগল ম্যাপ, নেটফ্লিক্স, উবার কিংবা উইচ্যাটের মতো অ্যাপগুলোর লাইসেন্সের জন্য ভবিষ্যতে আরও দ্বিগুণ অর্থ দাবি করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন স্যাককনগি।