বাধা দিয়ে জনজোয়ার ঠেকানো যাবে না : এরশাদ

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমাদের জোট এখন অনেকের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক দল এখন আমাদের সঙ্গে জোটভুক্ত হতে চায়। তবে সরকার চায় না আমাদের জোটের পরিধি বাড়ুক। কারণ আমাদের জোট শক্তিশালী হলে আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তবে বাধা দিয়ে জনজোয়ার ঠেকানো যাবে না। শত বাধা উপেক্ষা করে জনগণের সমর্থন নিয়ে আমার জোট ক্ষমতায় যাবে।

রোববার সকালে সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স-বিএনএ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনএ জোটের চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, বিএনএ জোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আক্তার হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আফাজুল হক।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদা আক্তার, উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর শিকদার লোটন, ফখরুল আহসান শাহজাদা, মুশফিকুর রহমান, সুজন দে, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

এরশাদ বলেন, ২০০৮ সালেই বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় দলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমাদের সঙ্গে বেঈমানি করেছিল বলে আজ বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মাথা ঘামাতে হচ্ছে। ২০০৮ সালে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট করে নির্বাচন করেছিলাম। আমাদেরকে ৪৮টি আসন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। ৪৮টি আসনের মধ্যে ১৯টিতেই নৌকার প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেয়। আমরা মাত্র ৩১ আসনে নির্বাচন করে ২৯টি আসনে জয় লাভ করেছিলাম। আর বিএনপি ও তাদের জোট ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩৩টি আসন পেয়ে বিরোধী দল হয়েছিল।

আমরা যদি ৪৮টি আসনে নির্বাচন করতে পারতাম তাহলে কমপক্ষে ৪৪টি আসনে বিজয় হয়ে শক্তিশারী বিরোধী দলে থাকতাম। সেবার আওয়ামী লীগ ইচ্ছা করে বিএনপিকে বিরোধী দল বানানোর কারণেই আজ সেই বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী লীগকে মাথা ঘামাতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে খুন-গুম-হত্যা-ধর্ষণ-নারী নির্যাতন এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ঘুষ-দুর্নীতি চাঁদাবাজি অর্থপাচার আজ মহামারী আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের বদলে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশের পরিস্থিতি এর চেয়ে ভয়াবহ হবে। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে এই দুই দলের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করব। প্রতিহিংসার রাজনীতি আমরা বন্ধ করব। খুন সন্ত্রাস দুর্নীতি বন্ধ করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করব।