বন্যায় ভাসছে কুড়িগ্রামের দুই তৃতীয়াংশ এলাকা

নিউজ ডেস্ক: মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে কুড়িগ্রামের মানুষ। বানের পানিতে ভাসছে জেলার দুই তৃতীয়াংশ এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক পরিবার। এদের মধ্যে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বেশিরভাগের ভাগ্যে এখনো পর্যন্ত জোটেনি সরকারি ত্রাণ।

ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য নদীর পানিও উপচে ৯ উপজেলার ৫৪ টি ইউনিয়নের ৭’শ ৭১ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছেন লক্ষাধিক পরিবারের অন্তত ৪ লাখ মানুষ।

পথঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলা ছাড়া চলাফেরা করা যাচ্ছে না। খাদ্য ও বিশুদ্ধ জলের সংকটে পড়েছেন বানভাসি মানুষেরা। এদিকে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় শুধু কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে ৪০টি গ্রাম রোববার বিকেলের মধ্যে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। অনেকে বাড়িঘড় ছেড়ে স্কুল ঘর এবং আশ্রয় কেন্দ্র সহ সড়কের দু পাশে আশ্রয় নিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা এখন পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাননি।

বানভাসি মানুষের অধিকাংশই দিন-মজুর। তাই তাদের ত্রাণ দেওয়ার জন্য তালিকা করা হচ্ছে বলে জানালেন কুড়িগ্রাম উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার।

এই পরিস্থিতিতে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো ও রান্না করা খাবার সরবারহের পাশাপাশি বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হয়েছে বলে জানালেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।

জেলা ত্রাণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে এ পর্যন্ত ২’শ ৯৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আর বন্যার্তদের সহায়তায় ৫’শ ১ মেট্রিকটন চাল এবং ১২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।