তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই না: এরশাদ

নিউজ ডেস্ক : তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান না সম্মিলিত জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এমপি।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জোটের শরিক বিএনএ (বাংলাদেশ জাতীয় জোট) এর এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই না। কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারই আমাদের ওপর সুবিচার করেনি, বরং এ পদ্ধতি ঘৃণা করি। সাংবিধানিক সরকারের অধীনেই আমরা নির্বাচনে যাব।

তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ বিএনপি ও হাওয়া ভবন চায় না। তারা এই সরকারকেও চায় না।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, বিএনপি রাজনীতির বিষবৃক্ষ। এই বৃক্ষকে সরকারই বাঁচিয়ে রেখেছে। সরকার তাদের নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। বিএনপি কোথাও নেই। তাদের যা অবস্থা তাতে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।

সরকারের কারণে জোট বাড়ানো যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন এরশাদ।

তিনি বলেন, জোট আরো বড় করতে পারতাম। অনেকেই আসতে চায়। কিন্তু সরকার তাতে বাধা দিয়েছে। তারা মনে করে, সম্মিলিত জাতীয় জোট শক্তিশালী হলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। কিন্তু বাধা দিয়ে কী হবে, বন্যার পানিকে কি বাধা দিয়ে রাখা যায়?

সম্মিলিত জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে নেই। বন্যায় অনাহারে কী ভোগান্তি মানুষের। জানমালের নিরাপত্তা নেই। মানুষ এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছে। তারা এ অবস্থার পরিবর্তন চায়। একমাত্র সেটা করতে পারে সম্মিলিত জাতীয় জোট। তিনি জোটের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিএনএ জোটের চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনির সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জোটের মুখপাত্র ও জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, বিএনএ জোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গির হোসেন, শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আক্তার হোসেন, অ্যাডভোকেট আফাজুল হক।

জোটের মুখপাত্র এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, পার্টির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বেই সম্মিলিত জাতীয় জোট আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনী প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তিন মাসের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। এ কর্মসূচি সফল করে আমরা জনগণের কাছে যেতে পারব। আশা করছি, পল্লীবন্ধুর উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরতে পারলে জনগণ আমাদের নিরাশ করবে না। জনগণের ভোটেই ইনশাআল্লাহ আমরা ক্ষমতায় যাব।’

বিএনএ জোটের চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী মনি বলেন, বড় দুটি দল বারবার ক্ষমতায় এসেও জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। জাতীয় পার্টির সরকার আমলে যেসব উন্নয়ন হয়েছে তাই এখন আমাদের জন্য ইতিহাস। যেদিকে তাকাই এরশাদের কাজ চোখে পড়ে। তাই দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য এরশাদের বিকল্প নেই। তিনি সংসদীয় পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি চালুর দাবি করেন। একই সঙ্গে জোটের কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান মনি।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদা আখতার, যুব সংহতির সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন, সেক্রেটারি ফখরুল আহসান শাহজাদা, কেন্দ্রীয় সদস্য সুজন দে প্রমুখ।