পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেই আধুনিক চিকিৎসাসেবা

নিউজ ডেস্ক: পাবনা মানসিক হাসপাতাল। মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য সারাদেশে একনামে পরিচিত এ বিশেষায়িত হাসপাতালটি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ছয় দশকেও চিকিৎসাক্ষেত্রে এখানে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। চিকিৎসা বলতে শুধু ওষুধ সেবন। নেই চিত্ত বিনোদনের কোন ব্যবস্থা। উল্টো কখনো কখনো রোগীদের ভাগ্যে জোটে নির্যাতন। আরো ভয়াবহ হলো, হাসপাতালের ওয়ার্ডে নাকি কখনই আসেন না চিকিৎসক।

এক একটি মুখ যেন এক একটি জীবনের গল্প। যেখানে জীবন মানেই হতাশা আর স্বপ্ন মানেই সুস্থ হয়ে আপন ঘরে ফেরা।

জীবনের বিভিন্ন ধাপে স্বপ্নভঙ্গের আঘাত সইতে না পেরে এ মানুষগুলোর এখন ঠিকানা পাবনা মানসিক হাসপাতাল। যেটি পাবনা শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৭ সালে। পরে হেমায়েতপুরে ১১১ একর জমির ওপর হাসপাতালটি স্থানান্তর হয় ১৯৬০ সালে। ৬০ শয্যা থেকে ধাপে ধাপে এর ধারণক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ৫০০ শয্যা। তবে সুযোগ সুবিধার মান বাড়েনি এক চুলও। এখানে চিকিৎসা মানেই শুধু বন্দী জীবন আর ঘুমের ওষুধ। আর তা না খেলে অসহায় মানুষগুলোকে সইতে হয় নির্যাতন।

এক রোগী বলেন, ‘বেশি কথা বললে তাকে ঘুমের ট্যাবলেট বেশি করে দেয়। একটা ছেলে ওষুধ খেলো না তাকে ইচ্ছামতো পেটালো।’

মানসিক হাসপাতাল হলেও এখানে মনের চিকিৎসার আলাদা কোন ব্যবস্থা নেই বলে দাবি রোগী ও স্বজনদের। রোগীদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে কখনই আসেন না চিকিৎসক। শত শত একর জমি খালি থাকলেও নেই বিনোদন কিংবা কোন ফুলের বাগানও। একটি সিনেমা হল থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।

এক রোগী বলেন, ‘বাইরে খোলা জায়গায় গেলে মনটা ভালো লাগে। কিন্তু সে ব্যবস্থা নেই।’

আরেকজন বলেন, ‘আমি এখানে আড়াই মাস এসেছি কিন্তু এরমধ্যে ডাক্তার একবারও আসেনি।’

কর্তৃপক্ষের দাবি, মানসিক রোগীদের প্রতিদিন ফলোআপের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি পদ না থাকায় রোগীদের কাউন্সিলিং ও মনস্তাত্ত্বিক সেবা দেয়া যাচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব চিকিৎসা ছাড়া কখনই মানসিক রোগীদের সুস্থ করে তোলা সম্ভব নয়।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার বলেন, ‘যেখানে মানসিক এবং সামাজিক চিকিৎসা হবে না, শুধুমাত্র আমরা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে যাবে সেখানে এই চিকিৎসাটা অপূর্ণ থেকে যাবে।’

পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘এটা তো সাইকাইয়াট্রি হাসপাতাল, এখানে প্রতিদিন ফলোআপের দরকার হয় না। সিনেমা অপারেটরের পোস্ট ছিলো এক সময়। এখন সেই পোষ্টে কেউ কাজ করছে না। ওটা আমরা অন্য কাজে ব্যবহার করি।’

এমনিতেই মানব জীবনের অনেক রং এবং বৈচিত্র্য স্পর্শ করে নাই এসব হতভাগ্য মানসিক রোগীদের। তারওপরে যদি চিকিৎসা কেন্দ্রের অবস্থা এতোটা শোচনীয় হয় এদের আলোর পথ দেখাবে কে? তাই বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু ওষুধ দিয়ে বা বন্দি জীবনে নয়, এদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হলে গড়ে তুলতে হবে মুক্ত পরিবেশ।