তরুণ প্রজন্ম বিশ্ব জয় করতে পারে : ড. আতিউর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদন : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড.আতিউর রহমান। দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের মধ্যে তিনি একজন। তরুণ প্রজন্মের অন্যতম আইকন। তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই জনপ্রিয়। আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সামনের দিকে যেভাবে অগ্রসরমান হচ্ছে, এক্ষেত্রে ড.আতিউর রহমান এর ভূমিকাও কোন অংশে কম নয়। দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পরিচয় শুধু গভর্ণর হিসেবেই নয় , তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সেরা অর্থণীতিবিদ ।

তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ও করছেন, তা অনস্বীকার্য। অর্থনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিনি শুরু থেকেই নিয়মিত লেখালিখি করছেন। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই অর্থনীতির উপর তার অসংখ্য বই রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপনা করছেন।

তরুণ উদ্দ্যোক্তাদের ‘ সমস্যা ও সম্ভাবনা ‘ এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড.আতিউর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাদের ন্যাশনাল ও ফিচার ডেস্ক এডিটর মো.জুয়েল আহমেদ। এখানে তিনি তরুণ উদ্দ্যোক্তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়েই আলোচনা করেছেন।

সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো –

ঢাকানিউজ২৪ : আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে তরুণ উদ্দ্যোক্তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ড. আতিউর রহমান : বাংলাদেশের সবচাইতে বড় সম্পদ হচ্ছে এদেশের তরুণ প্রজন্ম। তরুণ প্রজন্ম একত্রে কাজ করে বিশ্ব জয় করতে পারে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বিভিন্ন বিষয়ে অনেক পজিটিভ। তারা পজিটিভটি কাজ করে খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ তরুণ উদ্দ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে অনেকেই সফল হচ্ছে।

ঢাকানিউজ২৪ : তরুণ উদ্দ্যোক্তারা ব্যবসা বা তাদের উদ্দ্যোগ কীভাবে শুরু করতে পারে?

ড. আতিউর রহমান : তরুণ উদ্দ্যোক্তাদের যেকোন ব্যবসা শুরু করার পূর্বে যেটি করতে হবে সেটি হলো যে বিষয়ে ব্যবসা করতে ইচ্ছুক সে বিষয়ে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। ঐ ব্যবসা সংক্রান্ত কাজগুলো মাঠ পর্যায়ে গবেষণা করতে হবে। ব্যবসার ধরন, কৌশল, গঠন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে মাঠে নেমে বাস্তবমুখী জ্ঞান আহরণ করতে হবে। নতুন উদ্দ্যোক্তাদের সফল হতে হলে অভিজ্ঞতা অর্জনের বিকল্প কোন পথ নেই। ফাইনান্স এর দিকেও খেয়াল রাপতে হবে। অবস্হা অনুযায়ী ব্যবস্হা নিতে হবে। আমি নিজে যা পারবো, তাই করবো। আমি যেখানে আধা মণ এর বোঝা বহন করতে সক্ষম, সেখানে যদি ১০ মন এর বোঝা বহন করতে যাই, সেক্ষেত্রে আমি সফল হতে পারবো না। একইভাবে আমি কি করতে চাই, কিভাবে করবো, সামনে পেছনে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে যদি মনে হয় যে, এই উদ্দ্যোগ গ্রহণ করলে আমি লাভবান হবো, তাহলেই ঐ উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা যায়।

ঢাকানিউজ২৪ : বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকাকালীন সময়ে তরুণ উদ্দ্যোক্তাদের জন্য আপনি কি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন?

ড. আতিউর রহমান : হ্যা। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর থাকাকালীন সময়ে আমি ঢাকা চেম্বারকে ১০০ কোটি টাকা দিয়েছিলাম তরুণ উদ্দ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করার জন্য। যাতে সেখান থেকে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নতুন কোন ব্যবসা শুরু করতে পারে। বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে নিয়ে আলোচনায় বসেছি যাতে যাতে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে তরুণ উদ্দ্যোক্তাদেরকে ঋণ প্রদান করা হয়। অনেক ব্যাংক তা করেছে। নারী উদ্দ্যোক্তাদের জন্য অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছি।

আমার সময়ে প্রায় ১০০০০ এর ও বেশি নতুন নারী উদ্দ্যোক্তা তৈরী করেছি। ” Business For the Poor ” নামে একটি পাইলট প্রকল্পও চালু করেছিলাম। সরকার প্রতি বছর শুধু নারী উদ্দ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকা করে বাজেটে বরাদ্দ রাখছে। কিন্তু নারী উদ্দ্যোক্তারা সঠিকভাবে এই অর্থ পাচ্ছে না। যে ১০০ কোটি টাকা নারী উদ্দ্যোক্তাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে এর মধ্যে যদি ৫০ কোটি টাকার একটি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম তৈরি করা যায় আর বাকি ৫০ কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর মাঝে দেয়া হয়, তাহলে তা তারাই স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারতো, সেটিই সবচাইতে বেশি কার্যকরী হতো। ঝুকি কমানোর জন্য তা করা যেতে পারে।

ঢাকানিউজ২৪ : নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে তরুণরা কী ধরনের বাধার সম্মুখীন হয় বলে আপনি মনে করেন?

ড.আতিউর রহমান : নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে তরুণদের অনেকেই জানে না যে, কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়, ব্যবসা শুরু করার জন্য কীভাবে ব্যাংক লোন নিতে হয়, বিজনেস অ্যাকাউন্ট কীভাবে পরিচালনা কররতে হয়, টেকনোলজি এর সঠিক ব্যবহার না করতে পারা ইত্যাদি নানান ধরনের প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হয়। পার্টনারশিপ বিজনেস সম্পর্কেও অনেকেরই ধারণা নেই।

ঢাকানিউজ২৪ : সর্বশেষে তরুণ উদ্দ্যোক্তাদের জন্য আশার বাণী হিসেবে তাদের উদ্দ্যেশ্যে কিছু বলেন?

ড.আতিউর রহমান : তরুণদের উদ্দ্যেশ্যে শুধু একটি কথাই বলতে চাই, তোমরা হাল ছেড়ো না। উদ্দ্যোগ গ্রহহ করেছো, ধৈর্য্য সহকারে সঠিকভাবে সঠিক পথ ধরে কাজ করে যাও, সফল হতে তুমি বাধ্য।