জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ আগস্ট জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন : “প্রতি বছরের মতো এবারো ৯ই আগস্ট ‘জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস-২০১৭’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ৯ই আগস্ট ব্রিটিশ তেল কোম্পানি শেল অয়েল -এর কাছ থেকে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করে রাষ্ট্রীয় খাতে অন্তর্ভুক্ত করেন। ফলে দেশের সম্পদের ওপর জনগণের ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত হয়। এ গ্যাসক্ষেত্রগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার পর থেকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনন্য ভ‚মিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত করছে।

আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিগত সাড়ে আট বছরে নতুন নতুন ক‚প খননসহ গ্যাস সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে জানুয়ারিতে দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বর্তমানে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। দেশের শিল্পায়ন দ্রুততর হচ্ছে।

আমাদের সময়ে সুন্দলপুর, শ্রীকাইল ও রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড সম্প্রসারণ এবং বিবিয়ানা-ধনুয়া গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। হবিগঞ্জের মুচাই এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কম্প্রেসর স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। গ্যাস নেটওয়ার্ক রাজশাহীতে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

আমাদের সরকার এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের ঘাটতি পূরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ৫০০ এমএমসিএফডি গ্যাস স্বল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। ২০৪১ সাল পর্যন্ত গ্যাসের চাহিদার ওপর ভিত্তিকরে স্থল ও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও অপচয়রোধী জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা ও জেট-১ ফুয়েল পাইপলাইন স্থাপন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২০২১ সালের মধ্যে ১০৮টি গ্যাসক‚প খননের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

আমরা বঙ্গোপসাগরের বিশাল সমুদ্র এলাকায় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান এবং উৎপাদন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ইকোনমি সেল’ গঠন, সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাসসহ সকল প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের জন্য দেশে এবারই প্রথম একটি ‘মাল্টিরোল অবশোর সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল’ ক্রয়ের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক গ্যাসসহ সকল জ্বালানির অপচয় রোধ করে এর যথাযথ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করে রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে অবদান রাখতে আমি সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস ২০১৭ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”