জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ৮ আগস্ট জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী ও সচেতন করে তুলতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ‘জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস-২০১৭’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

জ্বালানি উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুধাবন করেছিলেন যে, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। এ দূরদৃষ্টি থেকে তিনি ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বিদেশি কোম্পানি শেল অয়েল এর নিকট হতে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র ক্রয় করে দেশীয় কোম্পানির নিকট হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন। তাঁর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বিশাল অবদান রাখে।

অধিকন্তু জাতীয় অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব রেখে চলছে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতার এ অবিস্মরণীয় অবদানকে আমি স্মরণ করছি।

দেশের প্রধান জ্বালানি সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু ও পরিমিত ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পসমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে দেশের বিদ্যুৎ, শিল্প, বাণিজ্যসহ সকল খাতে নিরবচ্ছিন্ন প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এ জন্য বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) স্থাপন, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনসহ অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহ গ্রহণ করেছে।

এছাড়াও গ্যাসের চাহিদা ও যোগানের সমন্বয় সাধনের জন্য সরকার দেশের স্থলভাগে ও সমুদ্রাঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন, সঞ্চালন ও বিতরণে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি অন্যতম উৎস। তবে তা অসীম নয়। অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রাকৃতিক গ্যাসসহ সকল প্রাথমিক জ্বালানির নিরাপদ, সাশ্রয়ী, ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং অপচয় রোধে সকলকে আরো যত্নবান হওয়ার জন্য আহŸান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস-২০১৭ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

আমি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস-২০১৭ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”