৮ লাখ ৯০ হাজার কেজি চাল পুড়ল

নিউজ ডেস্ক: ধ্বংসস্তূপ থেকে বেলচা দিয়ে আধপোড়া চাল তুলে বস্তায় ভরছিলেন আড়তের কর্মীরা। কাটারিভোগ, ইরি, নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের তিন হাজার বস্তা ছিল হারুনুর রশীদ অ্যান্ড সন্স নামের এই আড়তে। গতকাল সোমবার দুপুরে আড়তের মালিক হারুনুর রশীদ চুপচাপ দাঁড়িয়ে কর্মীদের কাজ দেখছিলেন। পুড়ে যাওয়া চাল কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাছের খাবার হিসেবে প্রতি বস্তা ৪০০ টাকায় বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।

গত রোববার ভোরে চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে নয়টি চালের আড়তসহ ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। পুড়ে যাওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক ও কর্মীরা গতকাল সকাল থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিলেন।

হারুনুর রশীদ অ্যান্ড সন্স আড়ত ফেলে একটু এগোলেই জিলানী অটো রাইস মিল। দেখে বোঝার উপায় নেই, অগ্নিকাণ্ডের আগে এখানে চালের কল ছিল। কাঠের অবকাঠামো পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। চালকলের মালিক সোহেল আহমেদ খান নিজেই বেলচা হাতে বস্তায় পোড়া চাল ভরছিলেন। পাশাপাশি ১০ জন কর্মী কয়লা হয়ে যাওয়া চালকলের অবকাঠামো সরিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষোভের সঙ্গে এই ব্যবসায়ী বলেন, দুই মিনিট দূরত্বের ফায়ার স্টেশন যদি শুরুতে আগুন নেভাতে পারত, তাহলে এক-দুটি দোকানের বেশি আগুনে পুড়ত না। গত মাসেই জলাবদ্ধতার কারণে তাঁর চালকলে ১৫০ বস্তা চাল ভিজে নষ্ট হয়েছে। এবার পুরো চালকলই পুড়ল।

অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে নিউ আজমীর রাইস মিল। এই প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার ১৭৫ বস্তা চাল পুড়ে গেছে। এ ছাড়া সিন্দুকে থাকা ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকাও পুড়ে গেছে বলে জানান এই চালকলমালিকের ছেলে ওমর সাদেক।

পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চূড়ান্ত করেছে। আগুনে ১৭ হাজার ৮০০ বস্তা বা ৮ লাখ ৯০ হাজার কেজি চাল পুড়ে গেছে। সিন্দুকে থাকা ৩৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এর বাইরে তিনটি পাইকারি মুদিদোকানে ডাল, চিনি, লবণ, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য পুড়ে দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম প্রথম আলোকে বলেন, চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, পণ্য, টাকা, অবকাঠামোসহ মোট ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক এ কে এম শাকিল নেওয়াজ গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে চাল ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় ব্যবসায়ীরা বলেন, চাক্তাই এলাকার লামাবাজার ফায়ার স্টেশন যদি আগুন লাগার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে পানি ছিটাতে পারত, তাহলে এত ক্ষতি হতো না।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে শাকিল নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণসহ সব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আগুন লাগলে তাৎক্ষণিকভাবে কী করণীয়, তা জানতে চাক্তাই এলাকার প্রতিটি দোকানের একজন করে কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি মাসে একবার অগ্নিনির্বাপণ মহড়ারও ব্যবস্থা করা হবে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে লামাবাজার ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, আগুন লাগার পরপরই তাঁদের স্টেশন থেকে একটি পানিবাহী এবং একটি পাম্পবাহী গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। তবে বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ না থাকায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। চাক্তাই খালে তখন ভাটা থাকায় কাদা ও ময়লা পানি ঢুকে একপর্যায়ে পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। তবে নন্দনকানন ও আগ্রাবাদ থেকে আসা গাড়ি খালের ভাটির দিকে পাইপ বসিয়ে পানি তুলেছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু নিউ আজমীর রাইস মিলের পণ্যের বিমা করা আছে। অন্যদের নেই।