শিশু ধর্ষণ : বিকৃত রুচির বিস্ফোরণ

রুহুল আমিন ভূঁইয়া : গত কয়েক দিনের জাতীয় দৈনিক পত্রিকার রিপোর্ট পড়লেই বুঝা যায় আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ রূপ। লজ্জাও আমাদের দেখে লজ্জা পাবে। যান্ত্রিক জীবন যাপনের সাথে সাথে আমরা কতটা রোবোটিক হয়ে গেছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একসময় ধর্ষণ বলতে আলাদা করে নারী, শিশু কিংবা পুরুষ বুঝাতে হতো না। কিন্তু বর্তমানে আমাদের লজ্জাসীমা এতোটায় নিচে নেমে গেছে যে, নারী ধর্ষণের সমানুপাতে বাড়ছে শিশু ধর্ষণ, বাদ যাচ্ছে না ছেলেরাও। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে ভয়ংকর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে গণধর্ষণের হার। শিশুর সংজ্ঞা দিতে গেলে যে দুইটা টার্ম উল্লেখ না করলেই নয় তা হচ্ছে যারা ১) যৌবন প্রাপ্ত হয়নি ২) বয়ঃসন্ধিকালে পৌছেনি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে যৌবনের বিকৃত চাহিদা মেটানো জন্য আমরা আজ তাদেরকেই বেশি ব্যবহার করছি। কি অদ্ভুত আমাদের রুচিবোধ! শিশু ধর্ষিণের কেইসগুলা স্টাডি করলে দেখা যায় বেশির ভাগ অপরাধী বলতে গেলে প্রায় সবাই ভিক্টিমের নিকটজন কিংবা পাড়াপড়শি। যাদের বেশিরভাগ মধ্যবয়সী পুরুষ কিংবা গৌধুলি লগ্নের যুবক। ভাবলেই গা শিউরে উঠে। মেয়ে কিংবা নাতির বয়সী শিশুদের কিভাবে তারা লালসার শিকার বানায়। অনেক সময় পরিবারের কাছেই অনিরাপদ থাকে এই অনাগত ভবিষ্যৎ। যাদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় প্রত্যাশা করা যায় তারাই কুমিরের রূপে আবির্ভূত হয়েছে সমাজে। কী দুর্ভাগ্য জাতির! আমরা অনেক সময় ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককেই দায়ী করি। কিন্তু এই তিন কিংবা চার বছরের শিশুদের কী ধরণের পোশাকের কথা বলবেন আপনারা!  যারা পোশাক কি ও কেনো বুঝে না। জাতির কাছে প্রশ্ন রয়ে গেলো। গত পাঁচবছরে দেশে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে প্রায় ৭.৫ গুণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১২ সালে শিশু ধর্ষণে শিকার হয়েছে ৮৬ জন, ২০১৩ সালে তা ১৭০ জন, ২০১৪ সালে ১৯৯ জন। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৫২১ এ।  যার মধ্যে গণধর্ষণের শিকার ৯৯ জন। ২০১৬ সালে তা ৬৫০ ছাড়িয়ে যায়। জানুয়ারি ২০১৭ থেকে জুন পর্যন্ত এই সংখ্যা প্রায় ২৯৪। পরিসংখ্যানের দিকে থাকালেই বুঝা যায় কতটা অমানবিক এই আধুনিক সভ্যতা। এগুলা হল পত্রিকায় প্রকাশিত কিংবা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তৈরি করা রিপোর্ট। চক্ষুলজ্জার ভয়ে কত ঘটনায় যে পর্দার অন্তরালে থেকে যাচ্ছে আল্লাহ মালুম। সামাজিক হেনস্তা, সুষ্ঠু বিচারের অভাব, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, বিচারে ক্ষমতাসীনের একক আধিপত্য, মামলা ধামাচাপার জন্য হুমকি ধামকি, ঘরোয়া ভাবে মিটমাট কিংবা চক্ষুলজ্জার ফাঁদে পড়ে বেড়ে যাচ্ছে এই ভাইরাস। সমাজকে দূষণ মুক্ত করে শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গড়ে তোলা অভিভাবকের। আসুন অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে একটি আলোকিত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সবাই এগিয়ে আসি।