জমিসহ বাড়ি পাচ্ছে সোহাগপুরের বিধবারা

নিউজ ডেস্ক:  সোহাগপুরের বিধবা পল্লীর ৩০ শহীদ পরিববার সরকারি জমিসহ বাড়ি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০টি বাড়ি নির্মাণের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বাকী ২০টির কাজও শিগগিরই শুরু হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বাসসকে জানান, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকারকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে ৩০জন শহীদ পরিবারের সদস্য ও বিধবাকে এই বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। শিগগিরই এই বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সোহাগপুর গ্রামে যারা পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন এবং যে সব নারী বিধবা হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন ও যথাযথ মর্যাদা দেয়া হবে।
১৯৭১ সালে যুদ্ধ পরর্বতী সময় এই ঘটনা জেনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নগদ অর্থ সাহায্য করেছিলেন।

সোহাগপুরের বিধবা পল্লীর সবাইকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তাদের বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেছেন।

ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযেদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ক্যহলাখই জানান, ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযেদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ২ হাজার ৯শ’৭১টি বাড়ি নির্মাণ কাজ চলছে। এরমধ্যে ৭১টি বাড়ি হবে বীরঙ্গণাদের জন্য। তারই অংশ হিসেবে সোহাগপুরের বিধবা পল্লীতে ৩০টি বাড়ি নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান। বর্তমানে সারাদেশে ১৮৫ জন বীরঙ্গণা রয়েছে এবং আরো ১৫ জনকে বীরঙ্গণা খেতাব দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টায় সোহাগপুরে পাক হানাদার বাহিনী প্রায় দু’শ নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। নির্যাতন আর নিপীড়নের শিকার হন নারী-শিশুসহ অসংখ্য মানুষ। যেহেতু ওই সময়ে এই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ পাকহানাদার বাহিনীর হতে শহীদ হওয়ার পর থেকে এই গ্রামের নাম হয় বিধবা পল্লী। প্রথম পর্যায়ে সোহাগপুর গ্রামের ২০জন বিধবাকে সরকারি জমিতে ২০টি বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার কাজ খুব শিগগিরই শুরু করা হবে।

মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, সেদিনের সেই বিভিষিকাময় হত্যাকান্ডের পর স্বজন হারানোর স্মৃতি বুকে নিয়ে বেচেঁ আছে ওই গ্রামের বহু মানুষ। মন্ত্রী বলেন, সোহাগপুরের বিধবা পল্লীর সদস্যদের মধ্যে যারা বীরাঙ্গনার সনদ পাননি, তারা আবেদন করলে সরকার তা বিবেচনা করবে।