নবীনগরে ৫৭ ধারায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানায় দৈনিক অবজারভার প্রত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সীমান্ত খোকনের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে ৫৭ ধারায় মামলা হযেছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার(০৩/০৮) স্থানিয় সাংবাদিকদের সাথে কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বাদী অস্বীকার করেছেন।

সাংবাদিক সীমান্ত খোকন গত ২৫ জুলাই তার নামের ফেইসবুক আইডিতে নবীনগর উপজেলার টানচর গ্রামে ধর্ষিতা ও তার মা দু’দিন যাবৎ বন্দী’ শিরোনামে স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসটি মিথ্যা ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গত বুধবার সন্ধ্যা (১ আগষ্ঠ) বাদী নির্যাতিতার বাবা মো: মাসুদ মিয়া বাদী হয়ে নবীনগর থানায় মামলা করেন বলেন ওসি জানায়।

গতকাল বাদীর বারাত দিয়ে ওসি আসলাম শিকদার সাংবাদিকদের বলেন,সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মানহানীকর ও উস্কানী মূলক স্ট্যাটাস দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সমাজে মেয়ের বাবা ও মেয়েকে হেয় প্রতিপন্ন করায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে বাদী এ মামলা করেন।

২৪ জুলাই দুপুরে নবীনগর উপজেলার বীরগাওঁ ইউনিয়নের কিশোরপুর (টানচক) গ্রামে মো: মাসুদ মিয়ার স্ত্রী ও তার শিশুকন্যা কম্বল রোধে শুকানোর জন্য উঠুনে তারের মধ্যে দিতে গেলে তার আপন ছোট ভাই দিদার মিয়া ও তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়। ঝগড়ায় মাসুদ মিয়ার স্ত্রী ও তার শিশুকন্যা আহত হয়। এ ঘটনাটিকে ওই সাংবাদিক মানহানীকর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে আপন চাচা তার ভাতিজিকে ধর্ষন করে এবং মা মেয়ে দুজনই ঘরে বন্দী অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে মিথ্যা স্ট্যাটাস দেন।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক সীমান্ত খোকন বলেন, আমি আমার স্ট্যাটাসে ওই গ্রামের নির্যাতিতার পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশী একজন অ্যাডভোকেট এর রিকোয়েস্টে আমি ঘটনাটি নবীনগর থানাকে জানাই। থানার ওসি সেখানে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ফেইসবুকে একটি স্টেটাস লিখি পরে রাত ৯টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ওসি আমকে ফোন দিয়ে বলে বলেন, ওই মেয়ে ধর্ষিতা হয়নি। কোন পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই কিভাবে বুঝলেন যে ধর্ষিতা হয়েনি ব্যাপারটা আমার বোধগম্য হয়নি প্রশ্ন করলে ওসি আমাকে ৫৭ ধারার ভয় দেখান।

পরদিন আমাকে মেয়ের বাবা মামলার বাদী জানায়,আমার নির্যাতিতা মেয়ের শরিরের আঘাতের ছবি তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ। ওই সাংবাদিক আরো জানায়, বাদী মাসুদ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার পুলিশের চাপ ছিল,বাদী কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেনি, তারা একটা কাগজে বাদীর স্বাক্ষর নেয়। গ্রামের সাহেব সর্দাররা মামলার পক্ষে না গিয়ে মিমাংসার পক্ষে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ওসি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারার মামলার হুমকিটিই বাস্তবায়ন করলেন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী মাসুদ মিয়া মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন,ভাই আমি কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করি নাই, কি অইছে বলতে পারবনা,বাড়িতে ঝাগড়া হয়েছে, আমার নির্যাতিতা মেয়ের ছবি তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। আমার নিরাপত্তার জন্য কারোর নাম উল্লেখ না করে নবীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছি।