বিভিন্ন ভাষায় অসমাপ্ত আত্মজীবনী

নিউজ ডেস্ক: ২০০৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তাঁর মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুঁজে পান। খাতাগুলো অনেক পুরনো, পাতাগুলো জীর্ণপ্রায় এবং লেখা প্রায় অস্পষ্ট। মূল্যবান ওই খাতাগুলোই বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। যা তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। তবে ২০১২ সালে অসমাপ্ত রেখেই তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশের পর বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয় বইটি।

বঙ্গবন্ধু ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত কারাগারে বন্দি অবস্থায় এই অমূল্য দলিল রচনা করেন। তাঁর লিখিত এই স্মৃতিকথা ২০১২ সালের ১৮ জুন বাংলায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নামে প্রকাশিত হয়। বইটির প্রথম প্রকাশনার সার্বিক দায়িত্বপালন, তত্ত্বাবধান ও কার্যক্রম পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বইটি প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।
বাংলার পাশাপাশি ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ইংরেজি অনুবাদ ‘আন ফিনিসড মেমোরিজ’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম।

ইংরেজি ভাষায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশের পর বাংলাদেশ-ফ্রান্স কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫তম বার্ষিকীতে প্যারিস থেকে ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ থেকে বইটির ফরাসি সংস্করণ প্রকাশনার সব কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

ফরাসি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জিংকো এডিটর ফরাসি সংস্করণ প্রকাশ করে। বইটি অনুবাদ করেন প্রফেসর ফ্রান্স ভট্টাচারিয়া। ফরাসি সংস্করণের পাদটীকা লিখেছেন ইনালকোতে বাংলা ভাষা ও সভ্যতার শিক্ষক জেরেমি কদ্রন।

ফরাসি সংস্করণের উপক্রমণিকায় ফ্রান্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুবার্ট ভেদ্রিন লিখেছেন, ‘ভাগ্য ফ্রান্স ও বাংলাদেশকে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিপক্ষে ফরাসিরা বাঙালির সঙ্গে ছিল। একজন ফরাসি সেনা অফিসার গোলন্দাজ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন। যুদ্ধে পরাজয়ে বাংলা হারায় স্বাধীনতা। প্রায় ২১৪ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমানের হাত দিয়ে বাংলা তার স্বাধীনতা ফিরে পায়।’

ফরাসি সংস্করণের প্রকাশক মি. রেনালদ মনের মতে, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীর সাহিত্যিক মান ও ঐতিহাসিক মূল্য বিবেচনায় বইটি ফ্রান্সের সাধারণ পাঠক সমাজ এবং ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের কাছে সমাদৃত হবে।’

চীনা ভাষায় অনূদিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত চাই শি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বইটির অনুবাদ করেন। বইটি অনুবাদ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে চাই শি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমি একটি ভালো কাজ করেছি। আমি কয়েক বছর পর এসে দেখলাম বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে।’

চীনা ভাষায় অনুবাদ হওয়া বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি বিক্রি করে যা আয় হবে; তার সবটুকু অনুদান হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে মোড়ক উন্মোচন হয় হিন্দি ভাষায় অনূদিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির পিতার আত্মজৈবনিক গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর আরবি ভাষায় অনূদিত বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রিয়াদ এন.এ. মালকি।

বইটির জাপানি অনুবাদক জাপান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এনএইচকে) বাংলা বিভাগের কাজুহিরো ওয়াতানাবে। জাপানের অভিজাত প্রকাশনা সংস্থা আশাহি সোতেন জাপানি ভাষায় অনূদিত এই বইটি প্রকাশ করে।

এছাড়াও ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ স্প্যানিশ ও উর্দু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।